‘সংবিধান বাঁচাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’: সুপ্রিম কোর্টের প্রাঙ্গণে প্রস্তাবনা পাঠ প্রবীণ আইনজীবীদের! নিট-কাণ্ডের রেশ এবার দেশের শীর্ষ আদালতে

‘সংবিধান বাঁচাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’: সুপ্রিম কোর্টের প্রাঙ্গণে প্রস্তাবনা পাঠ প্রবীণ আইনজীবীদের! নিট-কাণ্ডের রেশ এবার দেশের শীর্ষ আদালতে

নয়াদিল্লি, ২৩ জুলাই: নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে, তার রেশ এবার পৌঁছাল দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রাঙ্গণে। রাজধানীর রাজপথে যখন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ উঠছে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন ও সংকেতময় পদক্ষেপে সরব হলেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের একাংশ। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, সংবিধান বাঁচাও’ ব্যানারকে সামনে রেখে সুপ্রিম কোর্টের সবুজ প্রাঙ্গণে একত্রিত হয়ে ভারতীয় সংবিধানের ‘প্রস্তাবনা’ (Preamble) পাঠ করলেন তারা। মূলত দেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক মূল্যবোধগুলোকে স্মরণ করিয়ে দিতেই আইনি সম্প্রদায়ের এই বিশেষ উদ্যোগ।

সংবাদমাধ্যম ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে আইনজীবীদের একটি বড় দল সারিবদ্ধভাবে সমবেত হন। তাদের হাতে ছিল সংবিধানের কপি এবং দেশের গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা সংবলিত ব্যানার ও পোস্টার। কোনো রাজনীতি বা দলীয় পতাকার অধীনে নয়, বরং আইনজীবী হিসেবে সংবিধানকে সুরক্ষার বার্তা দিতেই এই জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে উপস্থিত আইনজীবীরা সমস্বরে ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করেন। প্রস্তাবনায় উল্লেখিত ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য এবং ভ্রাতৃত্ববোধের যে মূল্যবোধসমূহ রয়েছে, সেগুলোকে এই সংকটের সময়ে লালন করার আহ্বান জানান তারা। দেশের আইনের শাসন ও সাংবিধানিক কাঠামো ধরে রাখার ক্ষেত্রে আইনি পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্বরা যে নীরব দর্শক হয়ে থাকবেন না, এই প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে সেটাই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

আইনজীবীদের এই প্রতীকী প্রতিবাদটি এমন একটি সময়ে ঘটল, যখন দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট-উগ (NEET-UG) প্রশ্নপত্র লিক নিয়ে শিক্ষার্থীদের লাগাতার বিক্ষোভ এক চরম উত্তপ্ত রূপ ধারণ করেছে। শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং উপযুক্ত জবাবদিহির দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু সম্প্রতি এই ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বুকে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এক মারাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ, যার ফলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। রাজপথে শিক্ষার্থীদের এই ন্যায়সঙ্গত দাবির ওপর পুলিশি পদক্ষেপ ও বলপ্রয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নাগরিক সমাজ ও দেশের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

পরীক্ষা সংক্রান্ত বারবার ঘটা অনিয়ম, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজের অসন্তোষ এখন তুঙ্গে। এই সার্বিক পটভূমিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের প্রস্তাবনা পাঠ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা বহন করছে।

আইনজীবী সমিতির সদস্যদের বক্তব্য, দেশের সংবিধান সাধারণ মানুষকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচারের যে অধিকার দিয়েছে, তাকে কোনোভাবেই খর্ব করা যায় না। যখন শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে কোটি কোটি তরুণ নাগরিকের মনে গভীর অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তখন দেশবাসীকে সংবিধান প্রদত্ত অধিকার ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানাতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের এই সংকেতময় প্রতিবাদ অনুষ্ঠান নিট বিতর্ক ও ছাত্র আন্দোলনকে যে আরও বড় মাত্রায় পৌঁছে দিল, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply