উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে একটি সামান্য সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৫ বছর বয়সী এক মুসলিম যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত যুবকের নাম জায়েদ। পরিবারের অভিযোগ, একটি গাড়ির সঙ্গে স্কুটারের সামান্য ধাক্কা লাগার পর তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, অপর এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৯ জুন বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ জায়েদ তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে মুস্তাফাবাদ থেকে বেহতা রোডের একটি সুইমিং পুলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথে তাঁদের স্কুটারের সঙ্গে একটি বালেনো গাড়ির সামান্য সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ, গাড়ি থেকে নেমে এক ব্যক্তি প্রথমে জায়েদকে একাধিক চড় মারেন এবং এরপর তাঁকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। জায়েদের দুই বন্ধুকে ওই গাড়ির পিছু নিতে বলা হয়।
পরিবারের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা জায়েদকে একটি প্রপার্টি ডিলিং অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছে তাঁর বন্ধুরা জায়েদকে অচৈতন্য অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। অভিযোগ, সেই সময়ও এক অভিযুক্ত তাঁকে লাথি মারছিল। বন্ধুরা জল ছিটিয়ে তাঁকে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করলেও তিনি আর সাড়া দেননি। এরপর অভিযুক্তরা তাঁদেরও হুমকি দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যেতে বলে।
পরবর্তীতে জায়েদকে দিল্লির একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
গাজিয়াবাদের গ্রামীণ এলাকার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সুরেন্দ্র নাথ তিওয়ারি জানান, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৩(১) ধারা (খুন) এবং ৩(৫) ধারা (যৌথ অপরাধমূলক উদ্দেশ্য) অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ ইতিমধ্যে রাহুল মাভি ওরফে পাহেলওয়ান নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। অপর অভিযুক্ত অনুজ কাসানা এখনও পলাতক। তাকে গ্রেফতারের জন্য একাধিক পুলিশ দল তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, মৃতদেহে বড় ধরনের বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন প্রাথমিকভাবে চোখে পড়েনি। তবে গলায় একটি দাগ পাওয়া গিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী দল। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, এটি শুধুমাত্র একটি সামান্য সড়ক দুর্ঘটনার জেরে ঘটে যাওয়া নৃশংস হামলা নয়, বরং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে যে তদন্ত নিরপেক্ষভাবে এগিয়ে চলছে এবং সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
