ইরান–আমেরিকা সংঘাত আরও ভয়াবহ!
ওয়েবডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ফের ভয়াবহ দিকে যাচ্ছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সামুদ্রিক সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে। মার্কিন হামলার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর কাছে নতুন Restricted Zone বা সীমাবদ্ধ এলাকা তৈরির ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালানোর পর ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ Strait of Hormuz ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।
ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে একটি নতুন নৌপথ এবং সীমাবদ্ধ এলাকা ঘোষণা করা হতে পারে। ইরানের দাবি, ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করেই নতুন শিপিং রুট তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—নতুন করে হামলা হলে ইরানের প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে।
তাহলে কি এবার যুদ্ধের আঁচ পৌঁছবে গোটা বিশ্বে?
হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশ পরিবহণ হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে জ্বালানি বাজারে।
আজকের বাজারেও সেই আশঙ্কার প্রতিফলন দেখা গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, উত্তেজনা বাড়ায় Brent crude-এর দাম প্রায় ১.২৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৭.৪৮ ডলারে পৌঁছেছে।
অর্থাৎ যুদ্ধ শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না—এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচের উপরও।
গাজা ও লেবাননেও বাড়ছে উত্তেজনা
মধ্যপ্রাচ্যের অন্য প্রান্তেও পরিস্থিতি শান্ত নয়। গাজায় ইজরায়েলি বিমান হামলায় এক বাবা ও তাঁর ৮ বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই দিনে আরও হামলায় মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।
দক্ষিণ লেবাননেও ইজরায়েলি হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আজকের প্রতিবেদনে অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে।
ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধেও নেই শান্তির সমাধান
অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক উদ্যোগও এখনও কোনও বড় breakthrough আনতে পারেনি। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার কিয়েভ সফর করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার আগে তাঁরা মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তবে এখনও যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সমাধান সামনে আসেনি।
তাহলে এখন প্রশ্ন—
ইরান–আমেরিকা সংঘাত কি আরও বড় যুদ্ধে পরিণত হবে?
হরমুজ প্রণালীতে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
গাজা ও লেবাননে কি ফের বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হতে চলেছে?
আর অন্যদিকে—
ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে মার্কিন কূটনৈতিক উদ্যোগ কি সত্যিই সফল হবে?
একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে শান্তির চেষ্টা—
কিন্তু এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ—বিশ্ব রাজনীতির আকাশে যেন ফের ঘন হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ।
পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই এই যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের
আমাদের ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/BanglakalMedia/
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

