কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর:
পশ্চিমবঙ্গের জোড়া বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। সোমবার কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগণনা ও ফলাফল প্রকাশ করা হবে ৯ অক্টোবর। ফলে দুর্গাপূজার আগেই রাজ্যের এই দুই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রের উপনির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চলেছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক পদ ত্যাগ করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। অন্যদিকে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বর্তমানে শুধু ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি নিজের হাতে রেখেছেন। দুই নেতার বিধায়ক পদত্যাগের কারণেই এই দুটি আসন ফাঁকা হয়েছিল। সেই শূন্য আসন পূরণ করতেই উপনির্বাচনের সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত বিস্তারিত সূচি অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এই দুই কেন্দ্রে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার। জমা পড়া মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনি বা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করার কাজ চলবে ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার। এ ছাড়া কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াতে চাইলে তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার। আগামী ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণের পর ৯ অক্টোবর সম্পন্ন হবে ভোটগণনার কাজ।
কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি মিলিয়ে মোট পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র এবং অসমের একটি লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন এই একই সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
এদিকে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আবহেই নন্দীগ্রামে জোরদার রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগেই নন্দীগ্রামে এক প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হরিপুরে নবনির্মিত দমকল কেন্দ্রের সূচনা, স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে আর্থিক অনুদান ও আবাস যোজনার টাকা হস্তান্তরের মতো একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। সেই সভামঞ্চ থেকেই আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপিকে বিপুল ভোটে জয়ী করার বার্তা দিয়ে তিনি ফলতা পুনর্নির্বাচনের রেকর্ড ব্যবধান ভেঙে ফেলার ডাক দেন আমজনতার কাছে।
ফলতা পুনর্নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৪৪ জন এবং ভোটদানের হার ছিল ৮৮.১৩ শতাংশ। সেই নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬টি ভোট এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিপিএম পেয়েছিল ৪০ হাজার ৬৪৫টি ভোট। অর্থাৎ ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটের বিরাট ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল গেরুয়া শিবির। শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেন, সাধারণ মানুষ তাঁকে আগে ৮২ হাজার ভোটে জয়ী করেছিলেন, এবার নন্দীগ্রামে ফলতার সেই মার্জিনের রেকর্ডও ছাপিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন চললেও তাঁর কাছে অগ্রাধিকারের তালিকায় এক নম্বরে থাকবে নন্দীগ্রাম।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

