মাত্র ৮ হাজার টাকার জন্য পিটিয়ে হত্যা Rapido Driver মোহাম্মদ উজাইবকে, শোকে পাথর পরিবার

মাত্র ৮ হাজার টাকার জন্য পিটিয়ে হত্যা Rapido Driver মোহাম্মদ উজাইবকে, শোকে পাথর পরিবার

বিশেষ সংবাদদাতা: মাত্র ৮,০০০ (আট হাজার) টাকার আর্থিক বিবাদকে কেন্দ্র করে নৃশংসতার এক চরম নজির দেখল দেশবাসী। সামান্য এই টাকার জন্য মোহাম্মদ উজাইব (Mohammed Uzaib) নামে এক Rapido বাইক-ট্যাক্সি চালককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘মুসলিম মিরর’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের পুরো পরিবার চরম মানসিক ট্রমা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন উজাইবের বৃদ্ধ বাবা-মা ও স্ত্রী।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ উজাইব নিজের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য র্যাপিডো চালক হিসেবে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করতেন। ঘটনার দিন একটি সামান্য আর্থিক লেনদেন বা মাত্র ৮ হাজার টাকা সংক্রান্ত পাওনাকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর তুমুল তর্কাতর্কি শুরু হয়। অভিযোগ, মুহূর্তের মধ্যেই সেই কথাকাটাকাটি চরম হিংসাত্মক রূপ নেয়।

উত্তেজিত দুষ্কৃতীরা উজাইবের ওপর চড়াও হয় এবং লাঠিসোঁটা ও ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করতে শুরু করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এবং প্রাণভিক্ষা চাইলেও রেহাই দেয়নি হামলাকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা উজাইবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং মাথায় মারাত্মক আঘাতের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

উজাইবের এই অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে তাঁর পরিবার সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের সদস্যদের কান্না ও আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। নিহতের এক আত্মীয় গণমাধ্যমকে বলেন, “উজাইব অত্যন্ত শান্ত এবং পরিশ্রমী ছেলে ছিল। মাত্র কয়েক হাজার টাকার জন্য একটা জ্যান্ত মানুষকে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হবে, তা আমরা ভাবতেও পারছি না। আমরা এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং খুনিদের ফাঁসি চাই।”

সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছেন, দিন দিন সমাজের মানবিক মূল্যবোধ কতটা নিচে নেমে যাচ্ছে যে, সামান্য আট হাজার টাকার জন্য একজনের প্রাণ কেড়ে নিতেও অপরাধীদের হাত কাঁপছে না। বিশেষ করে গিগ-ওয়ার্কার বা অ্যাপ-ভিত্তিক চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে আশেপাশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তদন্তকারী এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস অপরাধ। সামান্য টাকার লোভে বা রাগের মাথায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আইন নিজের পথে চলবে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আদালতের মুখোমুখি করা হবে। আমরা ভুক্তভোগী পরিবারকে দ্রুত ন্যায়বিচার দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

আপাতত এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নকেই ছারখার করে দেয়নি, বরং সমাজের ক্রমবর্ধমান অপরাধপ্রবণতা এবং অসহিষ্ণুতার এক কঙ্কালসার চেহারাও জনসমক্ষে উন্মোচিত করেছে।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply