কলকাতা, ১৩ আগস্ট:
রাজ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্কের আবহে এবার খোদ প্রশাসনিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর অভিযোগ। টাকার বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, এমন একটি অডিও ক্লিপ সম্প্রতি নেটমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ, অডিওটিতে যে ব্যক্তির কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে, তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকলের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও। এই চাঞ্চল্যকর অডিও ক্লিপটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ-সহ গোটা রাজ্য রাজনীতিতে এবং প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই অডিও ক্লিপটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে প্রশাসনিক স্তরের একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নাম এহেন দুর্নীতিমূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় জনমানসে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই অডিও ক্লিপটিতে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে যে, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কোনো এক ব্যক্তিকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে। সেখানে এক পক্ষ অপর পক্ষকে চাকরি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং তার বিনিময়ে আর্থিক লেনদেনের সরাসরি প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যে কণ্ঠস্বরটি চাকরির বিনিময়ে টাকা দাবি করছে বা প্রস্তাব দিচ্ছে, সেটি ডোমকলের বিডিও-র। একজন সরকারি আধিকারিক, যাঁর ওপর গোটা ব্লকের উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত থাকে, তাঁর নাম এভাবে বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং চাকরি বিক্রির মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল এমনিতেই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা। সেখানে খোদ বিডিও-র এমন একটি অডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই অডিও ক্লিপটি লোকমুখে এবং বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করার পাশাপাশি অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অডিওটির সত্যতা যত দ্রুত সম্ভব যাচাই করা প্রয়োজন। যদি সত্যিই ওই কণ্ঠস্বর ডোমকলের বিডিও-র হয়ে থাকে, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রশাসনের অন্দরমহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। রাজ্যে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন স্তরে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে যখন একাধিক তদন্তকারী সংস্থা কাজ করছে এবং আদালত নিয়মিত কড়া পর্যবেক্ষণ রাখছে, ঠিক সেই সময়ে ব্লক স্তরের একজন পদস্থ আমলার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নিঃসন্দেহে রাজ্য প্রশাসনের জন্যও যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন, অডিও ক্লিপের সত্যতা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সহজেই কোনো অডিওর উৎস এবং তা বিকৃত করা হয়েছে কি না, তা নির্ণয় করা সম্ভব। তবে সত্যতা যাচাইয়ের আগে প্রশাসনিকভাবে এখনই কোনো মন্তব্য করতে নারাজ ঊর্ধ্বতন কর্তারা। সব মিলিয়ে ডোমকলের বিডিও-র এই ভাইরাল অডিও ইস্যুটি আগামী দিনে প্রশাসনিক এবং আইনি স্তরে যে আরও বড় আকার ধারণ করতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

