নদিয়া, ১৬ আগস্ট:
স্বাধীনতা দিবসের রাতেই রক্তাক্ত হলো নদিয়ার নাকাশিপাড়া। শুক্রবার গভীর রাতে দুষ্কৃতীদের অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারালেন প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির বিশিষ্ট সদস্য আনিসুর রহমান এবং তাঁর চব্বিশ বছর বয়সি পুত্র আবু সুফিয়ান। বাড়ি ফেরার পথে তাঁদের গাড়ি আটকে প্রথমে এলোপাথারি গুলি এবং বোমা ছোঁড়ে দুষ্কৃতীরা। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে চম্পট দেয় আততায়ীরা। স্বাধীনতা দিবসের রাতে সংঘটিত এই নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র জেলা জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ব্যাপক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত আনিসুর রহমান ছিলেন নদিয়া জেলা কংগ্রেসের অত্যন্ত পরিচিত মুখ। তিনি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য হওয়ার পাশাপাশি জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং নাকাশিপাড়া ব্লক কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর সঙ্গে নিহত পুত্র আবু সুফিয়ান ছিলেন একজন আইনের ছাত্র। শুক্রবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি ও কাজকর্ম সেরে বেথুয়াডহরি থেকে চারচাকা গাড়িতে করে নিজেদের বাড়ি ফিরছিলেন পিতা ও পুত্র। সেই সময় নাকাশিপাড়া থানার নাগাদি রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় তাঁদের গাড়ির পথ আটকে দাঁড়ায় সশস্ত্র দুষ্কৃতী দল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিক তদন্তের সূত্র অনুযায়ী, গাড়িটি রেলগেটের কাছে আসামাত্রই দুষ্কৃতীরা সেটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়ির চালক ও আরোহীদের লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি বোমা ছোঁড়া হয় এবং এলোপাথাড়ি গুলি চালানো শুরু হয়। বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। গুলির আঘাতে গাড়িতে থাকা পিতা ও পুত্র রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে দুষ্কৃতীরা গাড়ির দরজা খুলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে তাঁদের কোপাতে থাকে। ঘটনাস্থলেই পিতা-পুত্রের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয় আততায়ীরা।
গভীর রাতে এই ভয়ঙ্কর হামলার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নাকাশিপাড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। জোড়া খুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে এবং শুরু হয়েছে নাকা চেকিং। পুলিশ মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আততায়ীদের ধরতে জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ঘটনার কঠোর নিন্দা জানানো হয়েছে এবং রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও কালা দিবস পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নাকাশিপাড়া এলাকার স্থানীয় রাজনৈতিক শত্রুতা এবং এলাকা দখলের পুরোনো বিবাদকে কেন্দ্র করেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। গোটা ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ জানতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
