লখনউ, ২২ অগস্ট:
অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান তছরুপ ও চুরির ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করার জেরে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একাধিক এফআইআর ও ধারাবাহিক হেনস্থার মুখে পড়েছেন সাংবাদিক অভিষেক উপাধ্যায়। ২০২৬ সালের জুন মাসে রাম মন্দির ট্রাস্টের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশের পরই তাঁর বিরুদ্ধে গাজিয়াবাদ ও লখনউয়ের একাধিক থানায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে প্রকাশ।
অভিষেক উপাধ্যায় তাঁর বিশেষ প্রতিবেদনে রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রাক্তন কর্মীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারে মন্দিরের অনুদান গণনা ও সুরক্ষার মারাত্মক গাফিলতির তথ্য সামনে আসে। রাম মন্দিরের জন্য সংগৃহীত কোটি কোটি টাকার অনুদান গণনা এবং ব্যবস্থাপনায় যে অস্বচ্ছতা চলছিল, তা তাঁর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বিশদে উঠে আসে।
এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরেই উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট নড়েচড়ে বসে। রাজ্য পুলিশের এই বিশেষ দলের তদন্তের ভিত্তিতে আটজন মন্দির কর্মচারীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং ট্রাস্টের কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিকও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
তবে এই ঘটনা উদঘাটনের পর থেকেই সাংবাদিক অভিষেক উপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক চাপ শুরু হয়। এর আগে ২০২৪ সালের একটি বিতর্কিত এফআইআরের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দমনমূলক বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। সেই নির্দেশ কার্যকর থাকা সত্ত্বেও তাঁর ঠিকানায় পুলিশের রুটিন তল্লাশি ও পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র ছাড়াই মামলার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

