উত্তরাখণ্ডের মোট ৭০টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫টি আসনেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জয়-পরাজয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি।

উত্তরাখণ্ডের মোট ৭০টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫টি আসনেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জয়-পরাজয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি।

দেরাদুন, ২২ অগস্ট:

উত্তরাখণ্ডের ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ক্ষেত্রে চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাবার ইনস্টিটিউট। তাদের প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মুসলিম জনসংখ্যার অনুপাতের সঙ্গে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত বা মৃত হিসেবে চিহ্নিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার হারের একটি গভীর ও শক্তিশালী সংযোগ লক্ষ্য করা গিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৩টি জেলার ক্ষেত্রে এই পারস্পরিক সম্পর্কের অনুপাত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উত্তরাখণ্ডের মোট ৭০টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫টি আসনেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জয়-পরাজয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি। এছাড়াও ভৌগোলিক দিক থেকে দেরাদুন জেলা ছাড়া রাজ্যের বাকি সমস্ত জেলাতেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ক্ষেত্রে মহিলাদের অনুপাত ৫০ শতাংশের বেশি। ৭০টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে অন্তত ৮ লক্ষ ৭ হাজার ৪১০ জন ভোটারকে এই বিশেষ প্রক্রিয়ার আওতায় চিহ্নিত করা হয়েছে। কয়েকশো পোলিং পার্টের প্রাথমিক তথ্য না পাওয়ায় এই সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, মুসলিম জনসংখ্যার হারের সঙ্গে ভোটার বাতিলের সরাসরি ইতিবাচক সংযোগ রয়েছে। যেখানে পিয়ারসন সহগ ধনাত্মক ০.৫৪ এবং স্পিয়ারম্যান সহগ ধনাত্মক ০.৮৪। বিপরীতে দারিদ্র্যের হারের সঙ্গে নাম বাদ পড়ার সম্পর্কের প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেকটাই দুর্বল, যার পিয়ারসন সহগ ধনাত্মক ০.১৭ এবং স্পিয়ারম্যান সহগ ধনাত্মক ০.৪৯। অন্যদিকে তপশিলি জাতিভুক্ত জনসংখ্যার হারের সঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার তীব্র নেতিবাচক সংযোগ পাওয়া গিয়েছে, যেখানে পিয়ারসন সহগ ঋণাত্মক ০.৬৫ এবং স্পিয়ারম্যান সহগ ঋণাত্মক ০.৫৩।

গবেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই ধরনের বৈষম্যমূলক পরিসংখ্যান সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত ও কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। উত্তরাখণ্ডের এই সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি এবার কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা এবং মহারাষ্ট্রের মতো বড় রাজ্যগুলির ভোটার তালিকা নিয়েও অনুরূপ বিশদ গবেষণা শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আরো বিস্তারিত জানতে https://sabarinstitute.org/research-and-publications/compr

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply