কলকাতা, ২২ অগস্ট:
সীমান্ত দিয়ে হাওয়ালার মাধ্যমে বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানে টাকা পাঠাত পাক গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত প্রদীপ্তকুমার সরকার। সম্প্রতি দিল্লি থেকে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফের জালে ধরা পড়ে শিলিগুড়ির বাসিন্দা ওই ব্যক্তি। তাকে জেরা করে এবং তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই আন্তঃসীমান্ত আর্থিক লেনদেন চক্রের একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে।
এসটিএফের তদন্তকারীদের দাবি, মূলত একটি বিস্তৃত হাওয়ালা নেটওয়ার্ক পরিচালনার দায়িত্বে যুক্ত ছিল প্রদীপ্ত। ভারতে বসে সীমান্তবর্তী গোপন রুটের সাহায্যে ও হাওয়ালার মাধ্যমে বাংলাদেশে সক্রিয় পাক গুপ্তচর ও তাদের সহযোগীদের কাছে নিয়মিত অর্থ পৌঁছে দেওয়াই ছিল তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সেই অর্থ পরবর্তীতে ঘুরপথে পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলার এবং জঙ্গি সংগঠনের হাতে পৌঁছে দেওয়া হতো বলে অনুমান করছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে যে, এই আন্তঃসীমান্ত কাজকর্ম পরিচালনা করতে এবং যোগাযোগ বজায় রাখতে প্রদীপ্ত বিশেষ কিছু মোবাইল সিম কার্ড ব্যবহার করত। তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সিম কার্ডগুলির মধ্যে একটি সরাসরি পাকিস্তান থেকেই পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল। গোটা চক্রের মাধ্যমে জালনোটের লেনদেন ও সিম পাচারের মতো দেশবিরোধী কার্যকলাপও চালানো হচ্ছিল।
ইতিপূর্বে কোচবিহার ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাক গুপ্তচর সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই প্রদীপ্ত সরকারের নাম উঠে আসে এবং তদন্তকারীরা জানতে পারেন যে সে দিল্লিতে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। এরপরই গোপন অভিযান চালিয়ে দিল্লি থেকে তাকে পাকড়াও করে বাংলায় নিয়ে আসা হয়। এই চক্রে আর কে কে যুক্ত রয়েছে এবং তাদের পেছনে আন্তর্জাতিক কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
