কোল্লাম, ৪ অক্টোবর:
পর্যাপ্ত পণ না পাওয়ার অভিযোগে সৌদি আরবে নিয়ে গিয়ে নববধূর ওপর নারকীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল কেরলের এক যুবকের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে কেরল পুলিশ। গুরুতর জখম অবস্থায় দেশে ফিরে আসা ২৪ বছর বয়সী ওই তরুণীকে কোল্লামের জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত তরুণীর নাম অঞ্জু। চলতি বছরের ২৭ জুলাই কোল্লামের বাসিন্দা এবং পেশায় ডেটা অ্যানালিস্ট অঞ্জুর সঙ্গে নন্দু দীনেশ নামে এক যুবকের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরই গত ৪ সেপ্টেম্বর স্বামীকে নিয়ে সৌদি আরবে যান অঞ্জু। সৌদি আরবের ফ্ল্যাটে পৌঁছনোর পরই অঞ্জুর ওপর শুরু হয় অকথ্য অত্যাচার।
অঞ্জু পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত পণ মেলেনি এবং দেখতে সুন্দর নয়—এই অজুহাতে স্বামী নন্দু তাঁকে ঘরে বন্দি করে রাখত। প্রেসার কুকার, মশলা পেষার হামানদিস্তা, ঝাঁটা, মোপ, চামড়ার বেল্ট এবং ল্যাপটপ চার্জারের তার দিয়ে তাঁকে দফায় দফায় মারধর করা হতো। শুধু তাই নয়, অঞ্জুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা জমানো টাকাও নন্দু জোর করে হাতিয়ে নেয়।
অঞ্জু আরও অভিযোগ করেছেন, তাঁকে জোর করে ক্যামেরার সামনে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল যে তিনি বিবাহবিচ্ছেদের পর দেহব্যবসায় যুক্ত হতে চান। সেই অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং রেকর্ড করে নন্দু অঞ্জুর পরিবার এবং প্রতিবেশীদের কাছে পাঠিয়ে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করে। দীর্ঘ নির্যাতনের পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর অঞ্জুকে একপ্রকার জোর করে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
দেশে ফিরে অঞ্জু সরাসরি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং তাঁর সারা শরীরে মারধরের গভীর ক্ষতের চিহ্ন ধরা পড়ে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ আধিকারিকরা হাসপাতালে গিয়ে অঞ্জুর বয়ান লিপিবদ্ধ করেন। কোল্লামের চভরা থানার পুলিশ অঞ্জুর স্বামী নন্দু এবং তাঁর বাবা দীনেশ ও মা জগদম্বার বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন ও পণপ্রথা নিবারণ আইনে মামলা রুজু করেছে। নন্দু বর্তমানে সৌদি আরবে রয়েছেন এবং পুলিশ তাঁকে দেশে ফেরাতে লুকআউট নোটিস জারির প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
