নির্বাচন কমিশনের একতরফা ভূমিকার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের এফআইআর দায়ের

নির্বাচন কমিশনের একতরফা ভূমিকার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের এফআইআর দায়ের

নয়াদিল্লি, ৮ অক্টোবর:

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তত্ত্বাবধানে চলা ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচি ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার অধীনে দেশের প্রায় ৯৫ কোটিরও বেশি ভোটারের তথ্য পর্যালোচনা করতে গিয়ে আনুমানিক ১৩ কোটি ৩৯ লক্ষ ভোটারের নাম ‘এএসডিডি’ বা অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত ও নকল (ASDD) ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। এই ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা ও নির্বাচন কমিশনের একতরফা ভূমিকার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের এফআইআর দায়ের করার ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে বিষয়টি তুলে ধরে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যবেক্ষকরা। ক্ষোভ উগরে দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একদিকে যেখানে ১৩ কোটিরও বেশি ভোটারের নাম যাচাই বা বাদ পড়ার ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে, সেখানে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমিশন অভিমুখে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করতে গেলে দিল্লি পুলিশের ‘পূর্বানুমতি’র অজুহাত দেখিয়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গত ৬ ও ৭ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন ভবন অভিযান এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ইন্ডি জোটের অঅনুমোদিত মিছিলের সময় বিনা অনুমতিতে আকাশবাণী ভবনে প্রবেশের অভিযোগে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অন্যান্য বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ।

বিরোধীদের স্পষ্ট অভিযোগ, কোনো প্রত্যক্ষ শুনানি বা ভোটারদের সরাসরি বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম এএসডিডি তালিকায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটার তাঁদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বিরোধী শিবিরের মতে, এটি সাধারণ ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এক সুপরিকল্পিত প্রশাসনিক অপচেষ্টা।

অন্য দিকে নির্বাচন কমিশন ও শাসকদল বিজেপির পক্ষ থেকে এই পুরো প্রক্রিয়াকে ভোটার তালিকার রুটিন বা স্বাভাবিক শুদ্ধিকরণ বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, কোনো বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় বাদ পড়ে থাকলেও তিনি নির্দিষ্ট ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে পুনরায় নিজের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাবেন। তবে কোটি কোটি নাগরিকের নাম এভাবে সংশয়ের মুখে ফেলে দেওয়ার পর নির্বাচন ভবনে স্মারকলিপি দিতে যাওয়া জাতীয় স্তরের শীর্ষ বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ফৌজদারি পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে নাগরিক সমাজ।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply