নয়াদিল্লি, ৩১ আগস্ট:
চলন্ত স্লিপার বাসের মধ্যে একাদশ শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে দিল্লির কাশ্মীরি গেট এলাকায়। উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরী জেলার বাসিন্দা ১৬ বছরের ওই কিশোরীর ওপর অত্যাচারের অভিযোগে বাসের চালক কুলদীপ এবং কন্ডাক্টর সন্দীপকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দু’জনেই উত্তরপ্রদেশের কানপুরের বাসিন্দা। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পাশাপাশি অপরাধে ব্যবহৃত স্লিপার বাসটিকেও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল গত ৪ অগাস্ট রাতে। ১৬ বছরের ওই কিশোরী মৈনপুরীর একটি স্থানীয় সরকারি ইন্টার কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। গত ৩ অগাস্ট পড়াশোনা না করায় মা তাকে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ৪ অগাস্ট পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। নয়ডা সেক্টর ৬৩ এলাকায় থাকা নিজের এক খুড়তুতো ভাইয়ের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসে উঠেছিল সে। কিন্তু সে দিন নয়ডায় প্রবল বৃষ্টি ও অন্ধকার থাকায় ভুলবশত পরীক্ষিত চকে নেমে পড়ে ওই ছাত্রী।
তদন্তে জানা গেছে, বাসে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেওয়ায় অভিযুক্ত চালক ও কন্ডাক্টর বাসটি মেরামতের জন্য সুরজপুরের একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার পর খালি বাসটি নিয়ে তারা তিমারপুরের দিকে রওনা দেয়। সেই সময় পরীক্ষিত চকে দাঁড়িয়ে থাকা ওই ছাত্রীর সঙ্গে তাদের দেখা হয়। পরীক্ষিত চক থেকে কাশ্মীরি গেট পর্যন্ত প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার সময় চলন্ত বাসের ভেতরেই কিশোরীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। বাসটি স্লিপার এবং ভেতরে পর্দা লাগানো থাকার কারণে বাইরে থেকে পথচারীদের কারও নজরে ঘটনাটি আসেনি।
ঘটনার পর নির্যাতিতাকে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাস (আইএসবিটি) ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত ওই কিশোরী পরে কাশ্মীরি গেট থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। এরপর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নেমে পুলিশ তিমারপুরের একটি বাস পার্কিং এলাকা থেকে অভিযুক্ত চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

