আদুর, পথানামথিত্তা (কেরল), ১৫ জুলাই: কেরলে ফের এক মর্মান্তিক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিচ্ছেদের পর নতুন করে জীবন শুরু করতে চাওয়া ৩১ বছর বয়সী মুসলিম যুবতী শেহনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তার আদুরের বাড়িতে। পুলিশ সূত্র ও স্থানীয়দের দাবি অনুসারে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন তার হিন্দু বন্ধু আরুন। তার পোশাকে রক্তের দাগ, মেঝে ও সিঁড়িতেও রক্তের ছাপ দেখা গেছে। আরুন নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি শেহনাকে চড় মেরেছিলেন এবং গলা টিপে ধরেছিলেন, কিন্তু পরে দাবি করছেন এটি আত্মহত্যা।
শেহনা এক সন্তানের মা। বিচ্ছেদের পর সন্তানকে নিয়ে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরুন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে কী ঘটেছিল তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আরুনকে আটক করেছে বলে জানা যায়। তার কাপড়ে লেগে থাকা রক্তের দাগ এবং বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা রক্তের চিহ্ন এই ঘটনাকে খুনের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা ভাইরাল হয়েছে। মুসলিম আইটি সেল-সহ বিভিন্ন সংগঠন এটিকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। কংগ্রেস নেতা ভি ডি সতীশনের কেরলে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শেহনা শান্ত স্বভাবের ছিলেন। নতুন করে সংসার সাজানোর স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশের কাছে আরও তথ্য চেয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছেন অনেকে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

