যন্তর মন্তরে স্বেচ্ছাসেবক মুসলিম যুবকের পরিবারকে যোগী পুলিশের আটক! ঘটনায় সোচ্চার সিজেপি, তীব্র নিন্দা অধিকার কর্মীদের

যন্তর মন্তরে স্বেচ্ছাসেবক মুসলিম যুবকের পরিবারকে যোগী পুলিশের আটক! ঘটনায় সোচ্চার সিজেপি, তীব্র নিন্দা অধিকার কর্মীদের

নতুন দিল্লি, ২৬ জুলাই: দিল্লির জন্তর মন্তরে নাগরিক প্রতিবাদমূলক কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত থাকা এক মুসলিম যুবকের পরিবারকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বেআইনিভাবে আটক করেছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। উত্তরপ্রদেশের পুলিশি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক হেনস্থার এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও মানবাধিকার কর্মী মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশিষ্ট মানবাধিকার সংস্থা ‘সিটিজেন্স ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস’ (সিজেপি) এক প্রেস বিবৃতি জারি করে পুলিশের এই ধরনের পদক্ষেপের কড়া নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ ও সামাজিক কাজের মূল্য হিসেবে তাঁর পরিবারকে এভাবে হেনস্থা করা সংবিধানিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

মাকতুব মিডিয়ার এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ, ভুক্তভোগী ওই মুসলিম যুবক বেশ কিছুদিন ধরেই দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে বিভিন্ন সামাজিক ও গণতান্ত্রিক ইস্যুতে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর অমিল ও শান্তিপূর্ণ সামাজিক কাজের সূত্র ধরেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর নজরদারি চালাতে শুরু করে বলে অভিযোগ। ঘটনার দিন আচমকাই কোনো আগাম নোটিশ বা সুস্পষ্ট আইনি কারণ ব্যতিরেকেই উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত তাঁর বাড়িতে চড়াও হয় পুলিশের একটি দল। এরপর ওই যুবকের পরিবারের সদস্যদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যদের কেন এবং কী অপরাধে আটক করা হলো, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পুলিশের তরফে দেওয়া হয়নি বলে ওই যুবক অভিযোগ করেছেন। সামাজিক কাজে যুক্ত থাকার দরুনই তাঁর পরিবারকে বলি বানানো হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানবাধিকার সংগঠন সিটিজেন্স ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস (সিজেপি) আইনি ও সামাজিকভাবে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে। সিজেপি-র বক্তব্য, সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার দমন করতেই এই ধরনের ভয় দেখানোর কৌশল অবলম্বন করছে উত্তরপ্রদেশ রাজ্য প্রশাসন। কোনো ব্যক্তি যদি আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে প্রতিবাদে অংশ নেন, তবে তাঁর পরিবারকে হেনস্থা করার অধিকার পুলিশের নেই।

সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, ভারতে বেশ কিছু সময় ধরে নাগরিক অধিকার কর্মীদের কণ্ঠরোধ করার এক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে কোনো আইনি অভিযোগ ছাড়া বা ভুয়া অভিযোগে আটক ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। কোনো ব্যক্তির স্বাধীন মতপ্রকাশের অপরাধে তাঁর পরিবারকে টার্গেট করার এই সংস্কৃতিকে চরম স্বৈরাচারী বলে অভিহিত করেছে অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলি।

সিজেপি এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কাছে অবিলম্বে ওই যুবকের আটক পরিবারকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, যেসব পুলিশ আধিকারিক কোনো পরোয়ানা ছাড়া বা আইনসম্মত কারণ ছাড়াই এই ধরনের পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে। বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ জানিয়েছে, দিল্লির মতো জায়গায় আইনানুগভাবে সামাজিক কাজে অংশ নেওয়া যদি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক সুরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

পুরো ঘটনাকে ঘিরে আইনজ্ঞ ও সুশীল সমাজের মধ্যেও ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। একাধিক আইনি বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, কোনো স্পষ্ট মামলা বা এফআইআর ছাড়া পরিবারকে তুলে নিয়ে যাওয়া ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১-এ উল্লেখিত ‘জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার’-এর পরিপন্থী। পুলিশি ক্ষমতার এই অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশিকাগুলির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিজেপি জানিয়েছে, অবিলম্বে এই বেআইনি আটক বন্ধ না হলে তারা আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবে।

বর্তমানে এই ঘটনার জেরে দিল্লিতে আন্দোলনরত যুব সমাজ এবং মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ ও সামাজিক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের এমন কঠোর মনোভাব দেশের নাগরিক সমাজের জন্য বিপজ্জনক সংকেত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply