নয়াদিল্লি, ৩১ আগস্ট:
উত্তরাখণ্ডের জিম মালিক দীপক কুমার ওরফে মহম্মদ দীপকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলার সমস্ত প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এক মুসলিম দোকানদারকে হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ডানপন্থী কর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সোমবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।
উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট এর আগে দীপক কুমারের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া এফআইআর খারিজ করতে অস্বীকার করেছিল। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে এই মামলা সংক্রান্ত কোনো মন্তব্য বা ভিডিও প্রকাশ করার ক্ষেত্রেও তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আদালত। হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্ত ও নির্দেশের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দীপক কুমার।
শুনানি চলাকালীন শীর্ষ আদালত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিতর্কিত এফআইআর-এর ভিত্তিতে শুরু হওয়া সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া এবং হাইকোর্টের নির্দেশের কার্যকারিতার ওপর আপাতত স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। একই সঙ্গে এই বিষয়ে উত্তরাখণ্ড রাজ্য সরকারের জবাবও তলব করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শীর্ষ আদালতে দীপক কুমারের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি। অভিযোগ ওঠে, ডানপন্থী কর্মীরা এক প্রবীণ মুসলিম দোকানদারকে তাঁর দোকানের নাম থেকে বাবা শব্দটি বাদ দিতে বাধ্য করছিলেন, কারণ শব্দটি হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগের সঙ্গে জড়িত। সেই সময় সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানান দীপক কুমার। ডানপন্থী কর্মীরা তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে মহম্মদ দীপক বলে পরিচয় দেন, যদিও তাঁর আসল নাম দীপক কুমার।
এর পরই ডানপন্থী কর্মীদের পক্ষ থেকে দীপক কুমারের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া ও গালিগালাজ করার অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১৫(২), ১৯১(১), ৩৫১(২) এবং ৩৫২ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর গত ৩১ জানুয়ারির ওই এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়ে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন দীপক কুমার।
গত মার্চ মাসে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট এফআইআর খারিজ করতে অস্বীকার করে এবং পুলিশ তদন্ত জারি রাখার অনুমতি দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও বা বার্তা দিলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে, তাই দীপক কুমারকে সামাজিক মাধ্যমে কোনো পোস্ট না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের সেই রায় এবং সামাজিক মাধ্যমে মতপ্রকাশে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকেই শীর্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জ জানান তিনি, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই স্থগিতাদেশ মিলল।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
