নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই: উত্তরপ্রদেশের রামপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মোহাম্মদ আলী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রশাসনিক আদেশকে ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ চরমে উঠেছে। রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (RDA) এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ ও বর্ষীয়ান নেতা শশী থারুর। যোগী আদিত্যনাথ সরকারের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘বিকৃত ও বিবেকহীন সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়ে থারুর স্পষ্ট জানান, দেশে শিক্ষার অভাব থাকা সত্ত্বেও চলমান একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংস করা কোনো যুক্তিযুক্ত বিচার হতে পারে না।
সমাজবাদী পার্টির কারারুদ্ধ নেতা আজম খান প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টির মধ্যে ৩৮টি ভবনই বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ধ্বংসের নোটিস পাঠিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (পূর্বতন টুইটার) সরব হন থারুর। তিনি লেখেন, “যে রাজ্যে ভালো মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চরম অভাব রয়েছে, সেখানে মোহাম্মদ আলী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টির মধ্যে ৩৮টি ভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বিকৃত মানসিকতার পরিচয়”।
তিরুঅনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদ আরও যোগ করেন, “যদি নকশা বা নির্মাণে কোনো আইনি গাফিলতি থেকে থাকে, তবে জরিমানার মতো অন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এমনকি প্রয়োজন হলে সরকার এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ভার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারত। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি সচল বিশ্ববিদ্যালয়কে এভাবে ধ্বংস করে দেওয়া কখনোই কাম্য নয়”।
রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ক্যাম্পাসের অধিকাংশ ভবন তৈরি করা হয়েছিল। প্রকৌশলীদের পরিদর্শনের পর এই নির্মাণের ওপর ধ্বংসের আদেশ জারি করা হয়।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাফ বক্তব্য, যখন এই ভবনগুলি নির্মাণ করা হয়েছিল, তখন ওই অঞ্চলটি রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভৌগোলিক ও আইনি একতিয়ারভুক্ত ছিল না। ফলে তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী আরডিএ-র নকশা মঞ্জুরির প্রয়োজন পড়েনি। যদিও প্রশাসন জৌহর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে ভবনগুলি সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন এবং মোরদাবাদ ডিভিশনাল কমিশনারের আদালতে মামলাটির শুনানির কথা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙার এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির অন্দরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কেবল শশী থারুরই নন, এর আগে আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা থেকে শুরু করে একাধিক নাগরিক অধিকার রক্ষা গোষ্ঠী এবং কংগ্রেসের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, রাজনৈতিক শত্রুতার জেরেই একজন নেতার তৈরি করা শিক্ষার প্রাণকেন্দ্রকে নিশানা বানানো হচ্ছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং দেশের শিক্ষা পরিকাঠামোর স্বার্থে প্রশাসনিক এই ‘বুলডোজার নীতি’ অবিলম্বে স্থগিত করা উচিত বলে মনে করছে বুদ্ধিজীবী মহল।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
