দেরাদুন, ১৪ জুলাই, ২০২৬: উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত ঘোষণার পর রাজ্যের ৪৫৬টি মাদ্রাসায় সরকারি আর্থিক অনুদান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শিক্ষা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ধামির এই ঘোষণা একটি অনুষ্ঠানে করা হয়। তিনি বলেন, রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি অনুদান বন্ধ হওয়ায় মাদ্রাসাগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবে প্রশাসনের দাবি, এতে মাদ্রাসাগুলির শিক্ষার মান উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি হবে না বরং তাদেরকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
এদিকে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ‘রাইজিং ফ্যালকন’ নামে একটি সংস্থা জানিয়েছে, “যারা মনে করেন ৪৫৬টি মাদ্রাসার অনুদান বন্ধ করলে জ্ঞানের আলো নিভে যাবে, তা গুরুতর ভুল ধারণা।” সংস্থাটি উল্লেখ করে যে, মাদ্রাসা থেকেই বেরিয়ে এসেছেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. জাকির হোসেন, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মৌলানা আবুল কালাম আজাদ এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামিক চিন্তাবিদ মৌলানা ওয়াহিদুদ্দিন খানের মতো ব্যক্তিত্ব।
সংস্থার বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্রিটিশ শাসন, দেশভাগসহ নানা দুর্দিনেও মাদ্রাসাগুলি টিকে ছিল। শিক্ষা কেবল সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল নয়, জ্ঞান, নিষ্ঠা ও সম্প্রদায়ের সমর্থনই এর মূল ভিত্তি। বিতর্ক যদি হয়, তা হওয়া উচিত শিক্ষার মান, স্বচ্ছতা ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমান আচরণ নিয়ে, কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের শিক্ষাগত পরিচয়কে লক্ষ্য করে নয়।
উত্তরাখণ্ডে মাদ্রাসা শিক্ষা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। অনেক মাদ্রাসাই ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিষয়ও পড়ায়। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে মাদ্রাসা শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চাপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমর্থকরা বলছেন, এতে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা আরও সুসংগঠিত হবে এবং সব শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পাবে।
রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিজেপি নেতারা এটিকে স্বাগত জানালেও বিরোধী দলগুলি সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করা হয়েছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, মাদ্রাসা সংস্কার প্রয়োজন কিন্তু হঠাৎ অনুদান বন্ধ না করে ধাপে ধাপে আধুনিকীকরণের পথে এগোনো উচিত। এই ঘটনা সারা দেশের শিক্ষানীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
