পশ্চিম মেদিনীপুরে স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রের যৌন নির্যাতন: প্রতিবাদে উত্তাল এলাকা, অভিযুক্ত গ্রেফতার

পশ্চিম মেদিনীপুরে স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রের যৌন নির্যাতন: প্রতিবাদে উত্তাল এলাকা, অভিযুক্ত গ্রেফতার

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় একটি সরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয়ে ঘটেছে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। ১১ জুলাই (শুক্রবার) ছয় বছরের ক্লাস ওয়ানের এক ছাত্রকে বিদ্যালয়ের ছেলেদের টয়লেটের অ্যাটেন্ড্যান্টের বিরুদ্ধে ‘ওরাল মলেস্টেশন’-এর অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির মা জানিয়েছেন, বাড়ি ফিরে এসে ছেলে তাঁকে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। অ্যাটেন্ড্যান্ট টয়লেটের দরজা বন্ধ করে নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ।

ঘটনা জানাজানি হতেই বিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে প্রধানশিক্ষক ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রধানশিক্ষক নাকি বলেছিলেন, “এতে স্কুলের বদনাম হবে”। অভিভাবকরা প্রধানশিক্ষকের অপসারণসহ দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন।

পুলিশের ভূমিকা 
পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মামলা রুজু করা হয়েছে। শিশু ভিকটিম হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভের পর অভিযুক্ত অ্যাটেন্ড্যান্টকে গ্রেফতার করা হয়।

এসপি পাপিয়া সুলতানা বিদ্যালয়কে একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত ছাত্রদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা
টয়লেটের বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো
টয়লেটের বাইরে অ্যাটেন্ড্যান্ট নিয়োগ করে শিশুদের সাহায্য করা
নতুন কর্মী নিয়োগের আগে পুরোপুরি ব্যাকগ্রাউন্ড চেক
ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা

এই ঘটনা স্কুলগুলিতে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবার সামনে এনেছে। বিশেষ করে সাপোর্ট স্টাফদের নিয়োগে যাচাই-বাছাইয়ের অভাব প্রকট। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কথিত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা প্রমাণ করে যে প্রতিষ্ঠানের সুনাম অনেক সময় শিশুর নিরাপত্তার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়।

পশ্চিমবঙ্গে শিশু ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে। এই ধরনের ঘটনায় অভিভাবকদের বিক্ষোভ প্রায়ই পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে। পাপিয়া সুলতানা আগেও বিতর্কিত ভূমিকার জন্য সমালোচিত হয়েছেন। তবে বর্তমানে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ঘোষণা করায় তা ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও বাস্তবে তার কার্যকর রূপায়ণ জরুরি।

এই মামলায় সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। অভিযুক্ত বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে। অভিভাবক ও শিশু অধিকারকর্মীরা দ্রুত বিচার ও বিদ্যালয়গুলিতে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে স্কুল সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply