কলকাতা, ৬ সেপ্টেম্বর:
আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকায় এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলায় দীর্ঘ ২৩ বছর বাদে রেহাই পেলেন অভিযুক্তরা। প্রমাণের অভাবে শনিবার কলকাতার বিচারভবনের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় জামিনে থাকা তিন অভিযুক্তকে এই মামলা থেকে সসম্মানে বেকসুর খালাস করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারক মন্তব্য করেন, সরকার পক্ষের আনা যাবতীয় অভিযোগ আদালতে যথাযথভাবে প্রমাণিত না হওয়ার কারণেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের তরফে আইনজীবী গণেশ মাইতি জানান যে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে মৃতার স্বামী ও দেবর সহ মোট তিনজনকে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই মামলার শুনানিপর্ব চলাকালীন ইতিমধ্যে অন্য দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন ও অনিচ্ছাকৃত খুনের যে ধারাগুলিতে মামলা রুজু হয়েছিল, তার কোনও অভিযোগই সরকারি আইনজীবী পক্ষ আদালতের কাঠগড়ায় তথ্যপ্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করতে পারেনি। ফলে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে অবশেষে নিস্তার মিলল তাঁদের।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০০৩ সালে। ওই বছর আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকার শ্বশুরবাড়িতে ওই গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় বধূর স্বামী সহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির নির্দিষ্ট ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে ঘটনার তদন্তে নামে। তদন্ত শেষ করে পুলিশ আদালতে চার্জশিট পেশ করার পর শুরু হয় মূল বিচারপ্রক্রিয়া। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দীর্ঘ শুনানিপর্বে সরকারি পক্ষ থেকে মোট ১৯ জন সাক্ষীর বয়ান গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগের স্বপক্ষে স্পষ্ট কোনও ভিত্তি না মেলায় শেষ পর্যন্ত আদালত এই নির্দেশ দেয়।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

