কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর:
বাঁকুড়ায় বাবার মৃত্যুর ঘটনার বিচার ও তদন্তের আর্জি নিয়ে কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছলেন ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য আবদুল হাফিজ। মঙ্গলবার এফআইআর এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি হাতে নিয়ে তৃণমূল নেত্রীর বাসভবনে যান তিনি। সেখানে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয়। এই সাক্ষাৎ প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরই বিরোধী শিবিরের এই তৎপরতা নিয়ে চাঁচাছোলা আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সিজেপি সদস্যের বৈঠক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, উনি চেষ্টা করছেন আলট্রা লেফট, রেডিক্যাল এবং বাকিদের উস্কে দিতে।তিনি এদের কাউন্ট করছেন না এবং এতে কোনও লাভ হবে না।এর পরেই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আপনারা একজন ১৫ বছরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, এতবারের এমপি, এতো বয়স্ক একজন মানুষ এবং এতদিনের রাজনীতিবিদ, তাঁকে ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন পতাকা তুলতে দেখেছেন কি? মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বাঁকুড়ার ইন্দাসের কারিশুন্দা গ্রামে।সিজেপির দাবি, গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের বেহাল দশা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আবদুল হাফিজ।দলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।এর পরই গত ১৪ অগস্ট রাতে আবদুলের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলায় গুরুতর জখম হন আবদুলের বাবা শেখ মহম্মদ মাফিক।পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এই হত্যাকাণ্ডে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে সিজেপি।
বাবার মৃত্যুর পর তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল আবদুলের বাড়িতে যায় এবং স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলে কালীঘাটে আসার পরামর্শ দেন।সেই নির্দেশ মেনেই মঙ্গলবার সমস্ত নথি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন আবদুল।তবে বৈঠক শেষে বাইরে বেরিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি।
তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন জানিয়েছেন, একজন আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতেই এই সাক্ষাৎ এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই।তিনি দাবি করেন, এর মধ্যে তৃণমূল বা সিজেপির কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ খোঁজা উচিত নয়।আবদুলের মূল দাবি কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, বরং তাঁর বাবার স্মৃতিতে গ্রামে একটি উন্নত পরিকাঠামোর স্কুল গড়ে তোলা হোক।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
