বর্ধমান, ১১ সেপ্টেম্বর:
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা ইউআইটিতে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ অর্থাৎ এবিভিপির দুই গোষ্ঠীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে চরম উত্তেজনা ছড়াল। পরিস্থিতি এমনই আকার ধারণ করে যে ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা অধ্যক্ষের ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এই নজিরবিহীন অশান্তির জেরে কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে হস্টেলের আবাসিকদের অবিলম্বে ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কলেজ ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই বর্ধমান ইউআইটি ক্যাম্পাসে এবিভিপির অন্দরে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার দখল ও কর্তৃত্ব স্থাপনকে কেন্দ্র করে ঠান্ডা লড়াই চলছিল। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা এবং কলেজের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি বিষয় নিয়ে সেই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বৃহস্পতিবার সেই দ্বন্দ্ব হাতাহাতি ও প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নেয়। ক্যাম্পাসের ভেতর উভয় পক্ষের ছাত্ররা একে অপরের ওপর লাঠি ও রড নিয়ে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন পড়ুয়া আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের রেশ ক্যাম্পাসের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় প্রশাসনিক ভবনেও। একদল ক্ষুব্ধ ছাত্র অধ্যক্ষের ঘরে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে এবং চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। অভিযোগ, অধ্যক্ষের ঘরের আসবাবপত্র, কম্পিউটার, চেয়ার ও টেবিল ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও ছিঁড়ে নষ্ট করা হয়েছে। ঘটনার সময় অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ক্যাম্পাসে এমন নজিরবিহীন তাণ্ডবের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জরুরি বৈঠকে বসে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমস্ত পঠনপাঠন ও প্রশাসনিক কাজকর্ম স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হস্টেলের সমস্ত পড়ুয়াকে দ্রুত হোস্টেল খালি করার নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ভাঙচুরে জড়িতদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
