নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের শক্তিপুরে বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে ফের আইনি জটিলতায় জড়ালেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ূন কবীরের স্ত্রী মীরা সুলতানা। রাজ্য ভূমি দপ্তরের পর এবার সরাসরি পুলিশি সক্রিয়তা শুরু হয়েছে এই ইস্যুতে। শক্তিপুর থানায় মীরা সুলতানাকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও, বিধায়ক জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী থানায় যাচ্ছেন না।
বিতর্কের সূত্রপাত
শক্তিপুরে প্রায় ১৭ শতক জায়গার ওপর হুমায়ূন কবীরের একটি বাড়ি তৈরির কাজ চলছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই জমি ও বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বৈধতা বা অনুমতি নেই। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই এর আগে রাজ্য ভূমি দপ্তরের পক্ষ থেকে মীরা সুলতানাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দফায় তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান।
পুলিশের তলব ও বিধায়কের পালটা অভিযোগ
ভূমি দপ্তরের ডাকে সাড়া না দেওয়ায় এবার কড়া পদক্ষেপ নিল শক্তিপুর থানার পুলিশ। আজ, ১২ই মার্চ দুপুর ১২টার মধ্যে মীরা সুলতানাকে থানায় দেখা করার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়।
তবে এই গোটা ঘটনায় চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন বিধায়ক হুমায়ূন কবীর। তাঁর দাবি:
- এটি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁকে হেনস্থা করার একটি পরিকল্পিত ছক।
- প্রশাসনকে ব্যবহার করে তাঁর পরিবারকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা চলছে।
- আইনি পথেই তিনি এর মোকাবিলা করবেন, তাই নির্ধারিত সময়ে তাঁর স্ত্রী থানায় হাজিরা দিচ্ছেন না।
বর্তমান পরিস্থিতি
পুলিশের নোটিশ সত্ত্বেও মীরা সুলতানা হাজিরা না দেওয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে জেলা মহলে জল্পনা তুঙ্গে। পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থেই এই তলব করা হয়েছিল। অভিযুক্ত পক্ষ সহযোগিতা না করলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে শক্তিপুর ও বহরমপুর এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে পৌঁছেছে। বিরোধীরা একে ‘আইন অমান্য’ হিসেবে দেখলেও, বিধায়ক ও তাঁর অনুগামীরা একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করছেন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
