ISRO থেকে একশো কুড়ি জন বিজ্ঞানীর ইস্তফা নিয়ে গভীর উদ্বেগ, দেশের মহাকাশ গবেষণায় মেধা ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

ISRO থেকে একশো কুড়ি জন বিজ্ঞানীর ইস্তফা নিয়ে গভীর উদ্বেগ, দেশের মহাকাশ গবেষণায় মেধা ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

নতুন দিল্লি, ০৪ আগস্ট:ভারতের শীর্ষস্থানীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইস্রো থেকে অতি সম্প্রতি প্রায় ১২০ জন মহাকাশ বিজ্ঞানী ইস্তফা দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি বিষদ বিশ্লেষণাত্মক নিবন্ধ প্রকাশ করেছে দ্য হিন্দু। প্রখ্যাত গবেষক বিজু ধর্মপালন লিখিত ওই নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের ফ্ল্যাগশিপ স্পেস এজেন্সিতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক বিজ্ঞানীর এই দলছুট হওয়াকে কোনো সাধারণ রুটিন পরিবর্তন বা পেশাগত রদবদল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এই ঘটনাটি প্রকাশ করে দেয় যে ভারতীয় মহাকাশ সংস্থায় তরুণ ও অভিজ্ঞ মেধা ধরে রাখার ক্ষেত্রে একটি গভীর অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে ইউ আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার বেঙ্গালুরু থেকে ৮০ জনেরও বেশি এবং বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার তিরুবনন্তপুরম থেকে ২০ জনেরও বেশি বিজ্ঞানী সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যে সকল বিজ্ঞানী ইস্রো ত্যাগ করেছেন তাদের একটি বড় অংশ সরাসরি যুক্ত ছিলেন ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত জাতীয় প্রকল্পগুলোর সঙ্গে। দেশের প্রথম মানববাহী মহাকাশ মিশন গগনযান, ঐতিহাসিক চন্দ্রযান-৩-এর সিমুলেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্পেডেক্স ও এলভিএম-৩ রকেট সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের কাজে তারা সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। অভিজ্ঞ ও উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই সকল বিজ্ঞানীদের আকস্মিক পদত্যাগের ফলে কৌশলগত জাতীয় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিশেষ চিন্তার ভাঁজ পড়েছে গবেষক মহলে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ভারতের মহাকাশ দফতর বা ডিপার্টমেন্ট অফ স্পেস গত ১৪ জুলাই একটি বিশেষ মেমোরান্ডাম জারি করতে বাধ্য হয়েছে। নতুন এই নির্দেশে বলা হয়েছে, যেকোনো সংকটপূর্ণ বা কৌশলগত মিশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীরা কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি অনুমোদন ছাড়া চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বা সংস্থা ত্যাগ করতে পারবেন না।

প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে যে, ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসরকারি মহাকাশ শিল্প বা প্রাইভেট স্পেস সেক্টরের ব্যাপক প্রসারই এই মেধা পাচারের মূল কারণ। নতুন তৈরি হওয়া দেশি ও বিদেশি বেসরকারি ফিনটেক ও এরোস্পেস সংস্থাগুলো মহাকাশ বিজ্ঞানীদের সরকারি বেতন কাঠামোর তুলনায় বহুগুণ বেশি বেতন এবং কাজের ক্ষেত্রে অধিক স্বাধীনতা প্রদান করছে। যদিও ইস্রোর উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা গোটা বিষয়টিকে সাধারণ পেশাগত রদবদল বলে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন, তবে একই সাথে সরকারি নিয়মকানুন কঠোর করে বিজ্ঞানীদের ধরে রাখার প্রয়াসও শুরু হয়েছে। ভারতের মতো উদীয়মান মহাকাশ শক্তির ক্ষেত্রে প্রথম সারির বিজ্ঞানীদের এভাবে বেসরকারি খাতে চলে যাওয়া দেশের দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ গবেষণার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাকাল-কে ফলো করু

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply