নতুন দিল্লি, ০৪ আগস্ট:যৌন নির্যাতন মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু আশারাম বাপুর অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন এবং সাজা স্থগিতের আর্জি সংক্রান্ত মামলায় আবার শুনানি শুরু হলো ভারতের সুপ্রিম কোর্টে। ২০১৩ সালে যোধপুরের আশ্রমে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ভক্তকে যৌন নিপীড়নের দায়ে নিম্ন আদালত আশারামকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে বহাল রাখে রাজস্থান হাইকোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন আশারাম। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতা ও অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে চিকিৎসার জন্য অন্তর্বর্তী জামিন চেয়েছিলেন তিনি। এই প্রেক্ষিতে দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস বা এমসের পক্ষ থেকে সম্প্রতি আশারামের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে পেশ করা হয়েছে।
বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালে-র সমন্বয়ে গঠিত শীর্ষ আদালতের একটি ডিভিশন বেঞ্চের সামনে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত শুনানিতে আদালত এমস-এর চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল, যাতে আশারামের বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসার আদৌ কোনো প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না তা পর্যালোচনা করা যায়। আদালতের সেই নির্দেশনা মেনে পেশ করা এমসের সাম্প্রতিক মেডিকেল রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে আশারাম বাপুর চিকিৎসার জন্য তাকে এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো কোনো আবশ্যিক শারীরিক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। চিকিৎসকদের দেওয়া এই মূল্যায়ন রিপোর্ট আদালতের এজলাসে পেশ করা হলে বেঞ্চ বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য পরবর্তী পর্যায়ে স্থগিত বা পাস ওভার রাখে।
আশারামের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন যে তাঁর মক্কেলের বয়স ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে এবং তিনি হৃদরোগ ও অন্যান্য বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন, ফলে তাঁকে বিশেষ চিকিৎসাসেবা প্রদান করা জরুরি। অন্যদিকে প্রসিকিউশন ও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জামিনের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। তাদের যুক্তি, অতীতেও জামিনের সুযোগ নিয়ে তদন্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছিল এবং এমসের মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী জেলে রেখেই তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিচালনা সম্ভব। চিকিৎসকদের মূল্যায়নে জরুরি হাসপাতালে ভর্তির বাধ্যবাধকতা নাকচ হওয়ায় আশারামের অন্তর্বর্তী জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আইনি জল্পনা তৈরি হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বেঞ্চ উভয় পক্ষের যুক্তি ও এমসের মেডিকেল রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করে মামলার পরবর্তী শুনানি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

