কলকাতা, ৯ অক্টোবর:
প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিআই(এম) নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতে মদের বোতল ছুড়ে হামলার ঘটনার রেশ গড়াল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংঘাতে। ওই হামলার ঘটনার পর বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের করা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধেই পুলিশি তদন্তের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনার পর থেকেই আক্রান্ত আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া এবং সরকারের পাল্টা পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ভোরে দক্ষিণ কলকাতায় রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি মদের বোতল ছুড়ে কাচ ভাঙচুর করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখ ঢাকা এক বাইক আরোহী পরপর কাচের বোতল ছুড়ে বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে দেয় এবং হুমকি দেয়। এই ঘটনার পর বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ তোলেন যে হিন্দুত্ববাদী শক্তিই এই হামলার পেছনে জড়িত। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়িয়া এলাকা থেকে বাপ্পা গুছাইত নামে এক অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
হামলার পর বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছিলেন যে, গরিব মানুষের হয়ে লড়াই করার কারণেই তাঁর ওপর এই আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিভলভার রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তবে হামলার পর তিনি যেভাবে নির্দিষ্ট মতাদর্শ ও সংগঠনের দিকে আঙুল তুলেছেন, তা ভালো চোখে দেখেনি শাসক শিবির।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বাড়িতে হামলার ঘটনার তদন্ত যেমন আইনানুগভাবে চলছে এবং অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়েছে, তেমনই কোনো প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ্যে সমাজ ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার জন্য বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বক্তব্যের বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপত্তা ও সহানুভূতি দেওয়ার বদলে উল্টে তাঁর বিরুদ্ধেই তদন্তের নির্দেশ দিয়ে সরকার প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছে। অন্যদিকে শাসক শিবিরের দাবি, দায়িত্বশীল পদে থাকা এক প্রবীণ আইনজীবীর পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ ছাড়া ভিত্তিহীন ও উস্কানিমূলক অভিযোগ তোলা অনুচিত।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

