কারাগারে বন্দি উমর খালিদ পেলেন ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মান ‘ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডারস অ্যাওয়ার্ড’

কারাগারে বন্দি উমর খালিদ পেলেন ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মান ‘ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডারস অ্যাওয়ার্ড’

নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর:

বিনা বিচারে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে তিহাড় জেলে বন্দি থাকা বিশিষ্ট ছাত্র অধিকার কর্মী ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) গবেষক উমর খালিদকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মান ‘২০২৬ ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডারস অ্যাওয়ার্ড ফর হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস অ্যাট রিস্ক’-এ ভূষিত করা হলো। আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের ঐতিহাসিক ট্রিনিটি কলেজে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকারী মানবাধিকার কর্মী হিসেবে উমর খালিদের নাম এই সম্মানজনক তালিকার শীর্ষে স্থান পেয়েছে।

আয়ারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডারস’ প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঝুঁকি নিয়ে মানবাধিকার রক্ষার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের এই সম্মানে ভূষিত করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রান্তিক সংখ্যালঘু, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ নাগরিক অধিকারের পক্ষে নির্ভীক অবস্থান নেওয়ার জন্যই উমর খালিদকে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। দিল্লির তিহাড় জেলে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে টানা কারাবন্দি থাকায় তিনি ডাবলিনের অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আইরিশ সরকারের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজের উপস্থিতিতে তাঁর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ঘোষণা করা হয়।

মানবাধিকার সংস্থাটির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, উমর খালিদকে দীর্ঘদিন ধরে জামিনহীন অবস্থায় আটকে রাখা ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ওপর ক্রমবর্ধমান রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের একটি স্পষ্ট নিদর্শন। সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর আইনের অপব্যবহার করে কীভাবে ভিন্নমতাবলম্বী ছাত্রনেতা, সমাজকর্মী এবং সাংবাদিকদের নিশানা করা হচ্ছে, উমর খালিদের ছয় বছরের কারাবাস তারই এক উদ্বেগজনক প্রতিফলন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার ঘটনায় একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর উমর খালিদকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। বিতর্কিত বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএ (UAPA)-র কঠোর ধারা প্রয়োগ করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে দেওয়া খালিদের একটি ভাষণ দিল্লির হিংসা ছড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ ছিল।

যদিও আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি বরাবরই এই অভিযোগ খণ্ডন করে জানিয়েছে যে, সেই বক্তব্যে কোনো উস্কানি ছিল না, বরং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বার্তাই দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট ও দিল্লি হাইকোর্টে একাধিকবার তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে মূল মামলার বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুই হতে পারেনি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে উমর খালিদের এই স্বীকৃতি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিকে নতুন করে বৈশ্বিক নজরে নিয়ে এলো।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply