কৃষ্ণনগর, ২২ জুলাই: নদিয়ার কালীগঞ্জের বহুল চর্চিত তামান্না খাতুন খুনের ঘটনায় বড়সড় আইনি পদক্ষেপ করল রাজ্য পুলিশ। বহুল আলোড়িত এই হত্যাকাণ্ডে এবার এফআইআর-নামাঙ্কিত ২৪ জন অভিযুক্তের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হল আদালতের সমক্ষে। কৃষ্ণনগর মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (CJM) আদালতে কালীগঞ্জ থানার পুলিশের জমা দেওয়া এই অতিরিক্ত চার্জশিটে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে অস্ত্র আইনের ধারা, যা প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলাটিকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।
তদন্তকারী আধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষে প্রথম দফায় কেবল ১৩ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে বাকি ১১ জন অধরা অভিযুক্তকেও একে একে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে এফআইআরে নাম থাকা ২৪ জন অভিযুক্তকেই আইনি জালে আনা গেছে, যার মধ্যে ২৩ জন বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন এবং ১ জন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত।
৬০০ পাতারও বেশি দীর্ঘ এই বর্ধিত চার্জশিটে ৩০ জনেরও বেশি সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ বয়ান নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। এতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি বিস্ফোরক আইন এবং বহুল প্রতীক্ষিত ‘আর্মস অ্যাক্ট’ বা অস্ত্র আইনের ২৫ নম্বর ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রথম চার্জশিটে এই ধারা না থাকা নিয়ে যে আইনি শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, নতুন পদক্ষেপের ফলে তা পূরণ হলো।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৩ জুন। কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর জয়ী রাজনৈতিক শিবিরের বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, সেই মিছিল থেকে আচমকা ছোঁড়া বোমার আঘাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারায় ৯ বছরের খুদে তামান্না খাতুন। তামান্নার পরিবার বামপন্থী সমর্থক হওয়ায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর নিহত তামান্নার পরিবার ২৪ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল। পরবর্তীকালে রাজ্যে রাজনৈতিক বাতাবরণ বদলানোর পর এবং উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক তৎপরতা ও আশ্বাসের পরেই মূল মামলার তদন্ত নতুন গতি পায়। জেলা পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বিশেষ জোর দিয়ে মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি ও চার্জশিট সাজানোর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ এবং সমরাস্ত্র ব্যবহারের প্রাসঙ্গিক ধারা যুক্ত হওয়ায় এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া (Trial) অত্যন্ত দ্রুত শুরু হতে চলেছে। আদালতের বিচারে মামলাটি কতটা জোরাল ভূমিকা নেয়, সেদিকেই এখন নজর পুরো রাজ্যবাসীর।
সংবেদনশীল এই হত্যাকাণ্ডে পুলিশি তৎপরতার পর মৃত তামান্নার পরিবার দীর্ঘদিন বাদে বিচারের আশায় বুক বাঁধছে। নিহত শিশুর মা প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জানান, “যা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল, বিলম্বে হলেও তদন্তের গতি বাড়ায় অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আশা তৈরি হচ্ছে।”
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

