নয়াদিল্লি, ২৩ জুলাই: মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ চত্বর। দিল্লির সংসদ ভবনের ঐতিহাসিক ‘মকরদ্বার’-এর সামনে সরাসরি মুখোমুখি সংঘাতের মুখে পড়লেন ক্ষমতাসীন এনডিএ (NDA) এবং বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সাংসদরা। লোকসভা ও রাজ্যসভার মূল অধিবেশন কক্ষের বাইরে দুই পক্ষের তুমুল স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংঘাত এড়াতে এবং নিরাপত্তা রক্ষা করতে সংসদ ভবনের রক্ষীদের রীতিমতো মানবশৃঙ্খল তৈরি করতে হয়।
সংসদ ভবনের মকরদ্বারে প্রথমে জড়ো হতে শুরু করেন বিরোধী জোটের সাংসদরা। বিরোধীদের মূল দাবি ছিল, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে সংসদে অবিলম্বে বিস্তৃত আলোচনা করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। কংগ্রেস, সিপিআই(এম), সমাজবাদী পার্টিসহ বিরোধী দলগুলির সাংসদরা ব্যানার ও পোস্টার হাতে ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন।
বিরোধী সাংসদদের নিট কাণ্ডে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে স্লোগান তোলার মাঝেই একই স্থানে এনডিএ-র সাংসদদের পাল্টা বিক্ষোভ শুরু হয়। শাসকদলের সাংসদদের অভিযোগ, বিরোধী দলগুলি সংসদে ফলপ্রসূ আলোচনা থেকে পালিয়ে যেতে চাইছে এবং সংসদীয় মূল্যবান সময় নষ্ট করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
এনডিএ সাংসদরা পোস্টার হাতে পাল্টা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা একে অপরের অত্যন্ত কাছে চলে আসেন। সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস এবং বিজেপি নেতা অরুণ সিংয়ের মধ্যে পোস্টার টানাটানিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এর পরেই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নিরাপত্তা কর্মীরা দুই শিবিরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মানবশৃঙ্খল গড়ে তোলেন।
‘ইন্ডিয়া’ জোটের পক্ষে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী সরকারের শিক্ষানীতি ও প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়ে সোচ্চার হন। বিরোধীদের অভিযোগ, কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার উদাসীন। শিক্ষা ব্যবস্থার এই ধরনের প্রশাসনিক গাফিলতির দায় কেন্দ্রকেই নিতে হবে। বিরোধী নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা, যতক্ষণ না পর্যন্ত নিট বিতর্কের সুষ্ঠু সমাধান হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সংসদীয় ও রাজপথের চাপ অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, এনডিএ শিবিরের পক্ষে বিজেপি নেতৃত্ব বিরোধীদের এই কৌশলকে তীব্র আক্রমণ করে। শাসকদলের বক্তব্য, সরকার নিট ইস্যু এবং শিক্ষা ব্যবস্থার যে কোনো গাফিলতি নিয়ে সংসদে খোলাখুলি আলোচনা করতে পুরোপুরি তৈরি। কিন্তু বিরোধী দলগুলি গঠনমূলক আলোচনায় না গিয়ে শুধু হইচই করে অধিবেশন ভণ্ডুল করতে চাইছে।
একই সাথে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া যায়। তবে সংসদ চত্বরে তীব্র হট্টগোল ও রাজপথে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের আন্দোলনের জেরে সংসদের উভয় কক্ষের স্বাভাবিক কাজকর্ম বারবার বাধাগ্রস্ত হয়।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
