নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চা বলয়ের কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং গ্রামীণ যুবক-যুবতী ও মহিলাদের স্বনির্ভর করতে এক অভিনব পদক্ষেপ নিল জলপাইগুড়ি সদর ব্লক প্রশাসন। বড় কারখানার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাড়ির আঙিনাতেই হাতে তৈরি চা বা ‘হ্যান্ডমেড টি’ (Handmade Tea) উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হলো বুধবার থেকে।
উদ্যোগের মূল লক্ষ্য
জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য ক্ষুদ্র চা বাগান রয়েছে। এতদিন এই চাষিদের উৎপাদিত কাঁচা পাতা বিক্রির জন্য মূলত বড় ‘বটেলিফ’ (Bought Leaf) কারখানাগুলোর ওপর নির্ভর করতে হতো। অভিযোগ, অনেক সময় পাতার সঠিক দাম পান না চাষিরা। কখনও কখনও দাম নেমে আসে ১২-১৪ টাকায়। এই সমস্যা সমাধানেই কোনো দামী যন্ত্র ছাড়াই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হাতে চা তৈরির পাঠ দিচ্ছে প্রশাসন।
প্রশিক্ষণের বিশেষত্ব
বুধবার ব্লক অফিসে আয়োজিত এই শিবিরে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকরা হাতেকলমে চা তৈরির পদ্ধতি শেখান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
- স্বনির্ভরতা: গ্রামীণ মহিলারা ঘরে বসেই এই চা তৈরি করে বাড়তি উপার্জনের সুযোগ পাবেন।
- বিকল্প বাজার: কাঁচা পাতার দাম কম থাকলেও চাষিরা নিজেরা চা তৈরি করে তা সরাসরি বাজারে বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন।
- রপ্তানির সুযোগ: হাতে তৈরি চায়ের কদর বিদেশে তুঙ্গে। ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির জেলা সম্পাদক বিজয় গোপাল চক্রবর্তী জানান, এই চা রপ্তানিতে বিশেষ ছাড়ও মেলে।
আগামীর সম্ভাবনা
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিনয় রায় এবং অন্যান্য আধিকারিকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে জলপাইগুড়ির ক্ষুদ্র চা শিল্পে এক নতুন বিপ্লব আসবে। শুধুমাত্র বড় বাগানের শ্রমিক হিসেবে নয়, বাড়ির মহিলারাও হয়ে উঠবেন একেকজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। সদর ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী দিনেও এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া জারি থাকবে এবং যে কেউ এতে অংশ নিতে পারবেন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
