পাইপ আছে, জল নেই; পানীয় জলের দাবিতে ‘ভোট বয়কট’-এর হুঁশিয়ারি কুশল গ্রামে

পাইপ আছে, জল নেই; পানীয় জলের দাবিতে ‘ভোট বয়কট’-এর হুঁশিয়ারি কুশল গ্রামে

নিজস্ব সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: ক্যালেন্ডারের পাতায় সবে চৈত্র মাসের শুরু, আর তাতেই মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুশল গ্রামে তীব্র আকার ধারণ করেছে পানীয় জলের সংকট। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বালতি ও কলসি নিয়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হলেন গ্রামের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কয়েকশ বাসিন্দা। তাঁদের সাফ কথা— “ভোটের আগে জল না মিললে, ভোট বয়কট করা হবে।”

​অভিযোগের মূল কারণ

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের (PHE) পাইপলাইন বসানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আজ পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি ট্যাপকল বসানো হয়নি। ফলে রাধিকাপুর পিএইচই প্রকল্প থেকে জল পাওয়ার কথা থাকলেও তা অধরাই থেকে গেছে। গ্রামবাসীদের দাবি:

  • ​গত ১৫ বছরে তিন দফায় গ্রামে পাইপ বসানো হয়েছে, কিন্তু জল আসেনি।
  • ​অধিকাংশ মানুষ আয়রনযুক্ত অগভীর নলকূপের জল পান করতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে গ্রামে বাড়ছে পেটের রোগ।
  • ​জলের সন্ধানে অনেককে প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের কানহল গ্রাম পর্যন্ত ছুটে যেতে হচ্ছে।
  • ​ছয় মাস আগে সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েত দেড় লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি সাবমার্সিবল পাম্প বসালেও ফিল্টারের অভাবে সেটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে।

​স্থানীয়দের ক্ষোভ

​বিক্ষোভে অংশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মজিফুল আলম এবং আরতী মণ্ডলরা বলেন, “নেতারা ভোটের সময় বড় বড় আশ্বাস দিয়ে যান, কিন্তু ভোট মিটলে তাঁদের আর দেখা পাওয়া যায় না। প্রশাসনের সব স্তরে জানানো হলেও কেউ কর্ণপাত করেনি। এবার আমরা প্রতিজ্ঞা করেছি, জল না পেলে ভোট দিতে যাব না।”

​রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া

​ঘটনা প্রসঙ্গে বাম নেতা আব্দুল বাসির জানান, গত ৬ জানুয়ারি ব্লক প্রশাসনের কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আড়াই মাস কাটতে চললেও প্রশাসনের তরফে কোনো সদর্থক ভূমিকা দেখা যায়নি। শীঘ্রই ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply