মধ্যপ্রদেশের বিদিশার বেতোয়া নদীর বিপজ্জনক পিলারে লাফিয়ে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

মধ্যপ্রদেশের বিদিশার বেতোয়া নদীর বিপজ্জনক পিলারে লাফিয়ে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

বিদিশা, ৫ আগস্ট:মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলার কাঁকরাউয়া গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এলাকার একমাত্র স্থানীয় বিদ্যালয়টি কেবল অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত হওয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য স্থানীয়দের পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেতে হয়। স্বাভাবিক সড়কপথে ঘুরলে শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮ থেকে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। এই দীর্ঘ দূরত্ব এড়াতে এবং যাতায়াতের সময় বাঁচাতে খুদে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় বেতোয়া নদীর স্টপ ড্যামের কংক্রিটের পিলারের ওপর দিয়ে যাতায়াত করছে। এই উপায়ে গেলে দূরত্ব কমে দাঁড়ায় মাত্র ১.৫ কিলোমিটার। কিন্তু এর জন্য তাদের বেতোয়া নদীর ওপর তৈরি প্রায় ১০টি কংক্রিটের পিলারের মধ্যকার ৩ থেকে ৪ ফুটের বিপজ্জনক ফাঁক লাফিয়ে লাফিয়ে পার হতে হয়।

বিগত ৭ থেকে ৮ বছর ধরে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এভাবে নদী পারাপার করে আসছে। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও এতদিন কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। বর্ষাকালে এই নদী পারাপার মারাত্মক বিপজ্জনক রূপ ধারণ করে। বৃষ্টিতে পিলারের উপরিভাগ অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং নিচে নদীর তীব্র স্রোত প্রবাহিত হতে থাকে। ফলে সামান্য অসাবধানতায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। জানা গিয়েছে, উচ্চতা ও ভয়ের কারণে এই বিপজ্জনক পথ পার হতে না পেরে নিয়মিত স্কুলে যেতে ব্যর্থ হওয়ায় এক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণও হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শিক্ষাগ্রহণের এই করুণ চিত্র গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

সম্প্রতি বিবিসির সাংবাদিক বিষ্ণুকান্ত তিওয়ারি এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ত এই অঞ্চলের এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি প্রকাশের পরপরই ব্যাপকভাবে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হওয়ার পর জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রশাসনের নির্দেশে বিপজ্জনক পিলারের ওপর দিয়ে যাতায়াতের রাস্তাটি কাঁটাতার ও কাঁটা দিয়ে সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী যাতে পুনরায় ওই বিপজ্জনক পথ ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে সেখানে নিরাপত্তা প্রহরী মোতায়েন করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল ও প্রশাসনিক তৎপরতার পর স্থানীয় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বাইসাইকেল প্রদান করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা দীর্ঘ সড়কপথ সহজে অতিক্রম করতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে নদীর ওপর একটি সাময়িক সেতু নির্মাণ এবং গ্রামের বর্তমান বিদ্যালয়টিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত করার বিষয়ে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও এতদিন কেন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply