প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে কর্মরত শিক্ষকদের টেট দেওয়ার নির্দেশ রাজ্য সরকারের

প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে কর্মরত শিক্ষকদের টেট দেওয়ার নির্দেশ রাজ্য সরকারের

কলকাতা, ১১ সেপ্টেম্বর:

প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য শিক্ষক पात्रता পরীক্ষা বা টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করে নির্দেশিকা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দফতর। দেশের শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের প্রেক্ষিতে কর্মরত শিক্ষকদের দ্রুত এই যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়ায় শামিল হতে বলা হয়েছে। যে সমস্ত শিক্ষক এখনও টেট পাস করেননি, তাঁদের জন্য বিশেষ টেট পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে।

সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া নির্দেশ কার্যকর করতেই রাজ্য সরকার এই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার আগে বা পরে নিযুক্ত হওয়া সমস্ত প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকের ক্ষেত্রেই টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে টেট উত্তীর্ণ হতে না পারলে শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে যাওয়া থেকে শুরু করে চাকরির ক্ষেত্রে চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছিল আদালত।

আদালতের সেই রায়ের পরেই নড়েচড়ে বসে বিকাশ ভবন। রাজ্যের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে বহু শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন যাঁরা ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন বলবৎ হওয়ার আগে অথবা টেট চালুর আগে সরকারি নিয়মে নিযুক্ত হয়েছিলেন। এই সমস্ত কর্মরত শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা চিন্তা করে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে শিক্ষা দফতর স্পষ্ট করেছে যে, যাঁদের এখনও টেট যোগ্যতা নেই তাঁদের অবশ্যই আসন্ন টেট পরীক্ষায় বসে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।

স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মরত শিক্ষকদের সুযোগ দেওয়ার জন্য খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ টেট পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি ও নিয়মাবলী প্রকাশ করা হবে। এই পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকাও দেওয়া হবে।

সরকারি নির্দেশিকায় আরও পরিষ্কার করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সুযোগ দেওয়ার পরেও যদি কোনো শিক্ষক টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন, তবে নিয়মানুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশিকা মেনে শিক্ষকতার মানোন্নয়ন এবং পরিকাঠামো সুদৃঢ় করতেই রাজ্য সরকার কোনো রকম শিথিলতা দেখাবে না বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। সরকারের এই ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে কর্মরত শিক্ষক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ও তৎপরতা শুরু হয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply