নয়া দিল্লি, ২৯ অগস্ট:
লখনউ ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার হওয়া আদিবাসী গবেষক ও ছাত্রনেতা প্রিয়াংশু কাশ্যপের জেলবন্দি জীবনের এক বছর পূর্ণ হলো। এই প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলি পুরো মামলাটিকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ছত্তীসগঢ়ের বস্তারের বাসিন্দা এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রাক্তন ছাত্র প্রিয়াংশু দীর্ঘদিন ধরে দলিত, আদিবাসী ও শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২০২৫ সালের জুলাই মাসের শেষভাগে হরিয়ানা থেকে প্রথমে পুলিশ এবং পরবর্তীতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ তাকে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের আওতায় গ্রেফতার করে লখনউ নিয়ে যায়। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই মাওবাদীর উত্তর আঞ্চলিক ব্যুরোর হয়ে বিভিন্ন ছাত্র ও শ্রমিক ফ্রন্টে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন। তবে নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটি ও অধিকার কর্মীদের বক্তব্য, প্রান্তিক মানুষের পক্ষে আওয়াজ তোলার কারণেই রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে এই তরুণ গবেষককে।
ক্যাম্পেন এগেইনস্ট স্টেট রিপ্রেশন সহ তিরিশটিরও বেশি সামাজিক সংগঠনের মঞ্চ দাবি করেছে যে, লখনউ ষড়যন্ত্র মামলাটি আসলে ভীমা কোরেগাঁও মামলার মতোই একটি সাজানো বয়ান। গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অপরাধী সাব্যস্ত করতেই সরকার কালা কানুন ইউএপিএ-কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বিনা বিচারে দীর্ঘমেয়াদি আটক রাখার মাধ্যমে প্রাকৃতিক ন্যায়ের নীতি লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশিষ্ট অধিকার কর্মীরা।
প্রিয়াংশু কাশ্যপ ছাড়াও এই মামলায় একাধিক আইনজীবী ও সমাজকর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে হেফাজতে রাখা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে এখনও চূড়ান্ত কোনো বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়নি। অধিকার রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, অবিলম্বে প্রিয়াংশু সহ সমস্ত রাজবন্দির মুক্তি দিতে হবে এবং ভিন্নমত দমনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির এই অপব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

