নয়াদিল্লি, ২৭ আগস্ট:
কেন্দ্রীয় সরকারের অনলাইন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপি করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কোটি কোটি টাকার সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বরাত একচেটিয়াভাবে হাতিয়ে নিয়েছে একই পরিবারের নিয়ন্ত্রিত চারটি সংস্থা। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অলাভজনক প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য রিপোর্টার্স কালেক্টিভ’-এর এক বিশদ তদন্ত প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে একই পরিবারের সদস্য ও সংস্থাগুলি নিজেদের মধ্যেই প্রতিযোগিতার ভুয়ো পরিবেশ তৈরি করে একের পর এক প্রতিরক্ষা বরাত দখল করেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের অগস্ট থেকে ২০২৬ সালের অগস্টের মধ্যে প্রকাশিত সামরিক টেন্ডারগুলি যাচাই করে প্রায় ৯ কোটি টাকার এমন বরাত চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে এই একই পরিবারের অন্তত দুটি বা তিনটি সংস্থা পরস্পরের বিরুদ্ধে দরপত্র জমা দিয়েছিল। ভারতীয় সেনার জন্য সামগ্রী সরবরাহের ৩৩টি টেন্ডার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কারসাজির মাধ্যমে এমন ১৮টি দরপত্র জিতেছে এই সংস্থাগুলি। সেনার জন্য হেসকো বাস্টিয়ন ও আন্ডারগ্রাউন্ড এফএসসি বাঙ্কার সরবরাহের ক্ষেত্রে এই যোগসাজশ দীর্ঘদিন ধরে অবাধে চলেছে।
তদন্ত অনুযায়ী, কারচুপির সঙ্গে যুক্ত চারটি প্রতিষ্ঠান হলো দিল্লিভিত্তিক ভারত ওয়্যার মেশ, সেকো মেশিনস, কংসল ওয়্যারনেটিংস এবং জোহরিপুর স্টিল অ্যান্ড অ্যালয়েজ। প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ভারত ওয়্যার মেশ সারিতা বিহারে নথিভুক্ত হলেও বাকি তিনটি সংস্থা উত্তর-পূর্ব দিল্লির কাছাকাছি ঠিকানায় নিবন্ধিত। সর্বজনীন আর্থিক নথি, জিএসটি রেকর্ড, অডিট ব্যালেন্স শিট এবং কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সংস্থাগুলির মূল মালিকানা ও পরিচালনভার রয়েছে একই পরিবারের মা ও তার ছেলেদের হাতে।
রেকর্ড ঘেঁটে জানা গেছে, ব্যবসায়ী মোহিত গুপ্ত দুটি দরদাতা সংস্থার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন এবং তৃতীয়টির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র ছিল। তিনি জোহরিপুর স্টিল অ্যান্ড অ্যালয়েজের স্বত্বাধিকারী এবং ভারত ওয়্যার মেশের পরিচালক হিসেবে যুক্ত। অন্যদিকে অপর সংস্থাটির মালিকানা ছিল তার মায়ের হাতে। কংসল ওয়্যারনেটিংস অন্তত ১৫টি টেন্ডারে দরপত্র জমা দেয় এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেকো মেশিনস অথবা ভারত ওয়্যার মেশের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে অংশ নেয়। ফলে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রতিবারই ঘুরেফিরে এই পারিবারিক সংস্থাগুলিই নির্বাচিত হয়েছে।
চলতি চারটি বাঙ্কার তৈরির টেন্ডারেও একই চিত্র ধরা পড়েছে, যেখানে প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে কেবল এই পারিবারিক সংস্থাগুলিই যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। ফলে সেনার সামনে মূলত একই পরিবারের নিয়ন্ত্রিত ভিন্ন নামের সংস্থার মধ্য থেকেই ঠিকাদার বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংস্থাসমূহের আর্থিক নথি ও কর রেকর্ডের তথ্য একটু খতিয়ে দেখলেই এই যোগসাজশ ধরা পড়া সম্ভব হলেও, সেনা প্রশাসন কিংবা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে তা বছরের পর বছর চিহ্নিত করা যায়নি।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

