শিলচর, ২৯ অগস্ট:
আসামের কাছাড় কলেজে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। কলেজ চত্বরে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) কর্মীদের হাতে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মুসলিম ছাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, এবিভিপি সদস্যরা জোরপূর্বক তাদের হিজাব ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তাদের ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (এনএসইউআই)-এর একটি সদস্য সংগ্রহ অভিযানকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, কলেজ চত্বরে এনএসইউআই-এর কর্মসূচি চলাকালীন এবিভিপি সদস্যরা সেখানে পৌঁছে হিজাব পরিহিত মুসলিম ছাত্রীদের উপস্থিতি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায়। এরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। হামলায় এক ছাত্রী সহ একাধিক শিক্ষার্থী আহত হন এবং তাদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিগৃহীত মুসলিম ছাত্রীদের অভিযোগ, তাদের পোশাকের ওপর আপত্তি তুলে হেনস্থা করা হয়েছে এবং তাদের হিজাব টেনে খোলার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংঘর্ষের ঠিক আগের দিনই কলেজের একাংশ শিক্ষার্থী কাছাড় জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে ক্যাম্পাসে মুসলিম শিক্ষার্থীদের হিজাব ও টুপি পরার ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়েছিল।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে কাছাড় কলেজের অধ্যক্ষ জানান, কলেজ প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি চলছিল। তবে ঘটনার পর কলেজের পক্ষ থেকে নির্ধারিত ইউনিফর্ম কঠোরভাবে মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধি অনুযায়ী ছাত্রীদের জন্য সালোয়ার-কামিজ বা চুড়িদারের সাথে ওড়না নির্দিষ্ট করা রয়েছে এবং কোনো ধরনের পরিবর্তনের অনুমতি নেই বলে জানানো হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে। এবিভিপি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে ক্যাম্পাসে নিয়মমাফিক ইউনিফর্ম বজায় রাখার কথাই তারা বলেছিল এবং সামাজিক মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে। ঘটনাটির তদন্তে নেমেছে পুলিশ এবং কলেজের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা কমিটি।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

