নয়া দিল্লি, ২৯ অগস্ট:
কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বহু প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ ইন ইন্ডিয়া’ ভারতে প্রকাশ না করার কথা স্পষ্ট জানাল পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া। তবে পাণ্ডুলিপিতে প্রস্তাবিত সম্পাদনা ও সংশোধনী লেখিকা প্রত্যাখ্যান করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দাবিকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যা দিয়েছে প্রকাশনা সংস্থাটি।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনীর কিছু অংশে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া কাটছাঁট ও পরিবর্তন করার প্রস্তাব দিয়েছিল। লেখিকা সেই পরিবর্তন মেনে নিতে অস্বীকার করায় প্রকাশনা সংস্থাটি চুক্তি থেকে সরে আসে। এই সংক্রান্ত খবরের প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিবৃতি জারি করে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া জানিয়েছে যে তারা ভারতে এই বইটির প্রকাশক নয়। পাশাপাশি লেখিকা সম্পাদনা প্রত্যাখ্যান করার কারণে তারা বইটি প্রকাশ করছে না— এমন দাবি পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না বলেও সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে প্রকাশনা সংস্থাটি জানিয়েছে, পাণ্ডুলিপির তথ্য যাচাই করা এবং বইয়ের স্বার্থে লেখকদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করা একটি স্বাভাবিক প্রকাশনা প্রক্রিয়ার অংশ এবং তা প্রকাশকের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। পুরো আলোচনাকালে তারা বইটি প্রকাশ করতে সম্পূর্ণ ইচ্ছুক ও আগ্রহী ছিল বলে দাবি করা হলেও, লেখিকার সঙ্গে গোপনীয় আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে অস্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।
কংগ্রেস নেতৃত্ব অবশ্য এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ তুলেছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, আরএসএস এবং চীন সংক্রান্ত কিছু অংশ বাদ দেওয়ার জন্য প্রকাশনা সংস্থার ওপর সরকারের চাপ ছিল। এই ঘটনাকে বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত বলেও দাবি করেছে দলীয় নেতৃত্ব।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা অ্যালফ্রেড এ নফ আগেই ঘোষণা করেছিল যে আগামী ১০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারে বইটি প্রকাশিত হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইতালি থেকে শুরু করে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে বিবাহ, ভারতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ এবং ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার মতো সোনিয়া গান্ধীর জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অধ্যায় এই স্মৃতিকথায় স্থান পেয়েছে। ভারতে পেঙ্গুইন বইটি প্রকাশ না করলেও হার্পারকলিন্স সহ অন্যান্য প্রকাশনা সংস্থা ভারতীয় স্বত্ব অধিগ্রহণের দৌড়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

