সাহারানপুর, ৫ সেপ্টেম্বর:
উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলাশাসকের কার্যালয় চত্বরের ভেতরে থাকা একটি মসজিদ শনিবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। আদালতের নির্দেশে কাঠামোটিকে সরকারি জমিতে নির্মিত বেআইনি নির্মাণ হিসেবে ঘোষণার পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। উচ্ছেদ অভিযানের সময় কালেক্টরেটের পাঁচটি প্রধান ফটক সিল করে দেওয়া হয় এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, পিএসি ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়।
বজরং দলের প্রাক্তন প্রাদেশিক সমন্বয়ক বিকাশ ত্যাগীর দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে এই আইনি বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল যে, সংবেদনশীল সরকারি চত্বরে বেআইনিভাবে এই মসজিদটি গড়ে তোলা হয়েছে। এরপর সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত কাঠামোটিকে বেআইনি ঘোষণা করে তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সরকারি জমি দখল ও অপব্যবহারের অভিযোগে প্রায় ৬ কোটি ৪১ লক্ষ টাকার জরিমানাও ধার্য করা হয়।
মসজিদ কমিটি সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জেলা দায়রা জজের আদালতে আপিল জানায়। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে আদালত সেই আপিল খারিজ করে দিলে প্রশাসনের তরফ থেকে মসজিদটি ভাঙার চূড়ান্ত পথ প্রশস্ত হয়। সাহারানপুরের ডিআইজি অভিষেক সিং জানান, সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের পর্যবেক্ষণেই স্পষ্ট হয়েছিল যে কাঠামোটি সরকারি জমিতে বেআইনিভাবে তৈরি এবং সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনও খারিজ হয়ে গিয়েছে। তিনি আরও জানান, সতর্কতা হিসেবে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং গুজব ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য সামাজিক মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এই অভিযানের মধ্যেই সমাজবাদী পার্টির কৈরানা কেন্দ্রের সাংসদ ইকরা হাসান অভিযোগ করেন যে, সাহারানপুরে যাওয়ার আগেই তাঁকে তাঁর কৈরানার বাসভবনে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, মসজিদ উচ্ছেদের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে সাহারানপুর যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁকে আটকাতে তাঁর বাড়ির বাইরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে গৃহবন্দি করা হয়।
প্রশাসনের এমন পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে ইকরা হাসান প্রশ্ন তোলেন, একজন নির্বাচিত সাংসদের নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করা কি এখন অপরাধ। গণতন্ত্রে মানুষের আওয়াজ তুলে ধরার জন্যই জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করা হয় এবং তাঁকে আটকে সেই কণ্ঠরোধ করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সাংসদকে এলাকায় যেতে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ তোলে সমাজবাদী পার্টি। এসপি নেতা তথা গাজিপুরের সাংসদ আফজল আনসারি এই পদক্ষেপকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে শাসকদল।
ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করাই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এবং সাফল্য। অন্যদিকে বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতীও এই উচ্ছেদের সমালোচনা করে ধর্মীয় কাঠামোর বিরুদ্ধে এমন দ্রুত পদক্ষেপকে তাড়াহুড়ো বলে মন্তব্য করেন। তিনি এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রেখে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিকল্প আইনি পথ খোঁজার আহ্বান জানান। পাশাপাশি উপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়া না মেনে অভিযুক্তদের বাড়ি ভাঙার বিষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনের শাসন ও সকল ধর্মের মানুষের সমান সুরক্ষার ওপর জোর দেন তিনি।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদও এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করেন, এই মসজিদটি ১৯১১ সালের আগের সময় থেকে বিদ্যমান রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, জমিটি ওয়াহিদ খান এবং ইয়াকুব খানের নামে নথিভুক্ত ছিল। পুরো আইনি প্রক্রিয়ায় ওয়াকফ বোর্ডকে পক্ষ করা হয়নি অভিযোগ তুলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আইনি লড়াই চালানো হবে। যদিও প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণের প্রমাণ মেলার পর এবং আদালতের রায় মেনেই এই উচ্ছেদ কার্যকর করা হয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
