বুলডোজার এখন প্রতিহিংসার হাতিয়ার, সাহারানপুরের মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দায় আরশাদ মাদানি

বুলডোজার এখন প্রতিহিংসার হাতিয়ার, সাহারানপুরের মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দায় আরশাদ মাদানি

সাহারানপুর, ৫ সেপ্টেম্বর:

উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরের ভেতরে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি আরশাদ মাদানি। এই পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

মাদানি জানান, সাহারানপুরের এই মসজিদ ভাঙার ঘটনাটি সংবিধানের সর্বোচ্চ স্থান, আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিকদের সমতা এবং রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার মতো বৃহত্তর নীতিগুলি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সুবিচার নিশ্চিত করার বদলে বুলডোজার ক্রমশ প্রতিহিংসা, পক্ষপাতিত্ব ও বিদ্বেষের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এই সমস্যা কেবল একটি মসজিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে আরশাদ মাদানি প্রশ্ন তোলেন, সরকারি জমি, রাস্তা বা সার্বজনীন স্থানে দশকের পর দশক ধরে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কাঠামোর ক্ষেত্রেও কি একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, যদি বেআইনি দখল বা জবরদখল হটাই কোনো পদক্ষেপের মূল মানদণ্ড হয়, তবে সেই একই নিয়ম প্রতিটি ধর্ম ও সমাজের প্রতিটি অংশের ওপর সমভাবে প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক।

সাহারানপুরের ওই মসজিদ সংক্রান্ত আইনি ও ঐতিহাসিক নথির প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, কাঠামোটি ওয়াকফ বোর্ডের ৪৫১ নম্বর রেজিস্ট্রেশনের অধীনে নথিভুক্ত ছিল এবং পুরোনো ভূমি রেকর্ডে ইয়াকুব খান ও ওয়াহিদ খানের নাম রয়েছে। এ ছাড়া মসজিদ কমিটি আদালতের সামনে ১৯১১ সালের নথি, মিউনিসিপ্যাল রেকর্ড এবং পুরোনো রাজস্ব সংক্রান্ত তথ্য পেশ করেছিল।

মসজিদ কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান কালেক্টরেট ভবন গড়ে ওঠার বহু আগে থেকেই ওই মসজিদটির অস্তিত্ব ছিল। মাদানি প্রশ্ন তোলেন, বুলডোজার চালানোর আগে এই সমস্ত ঐতিহাসিক ও আইনি নথি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না। তিনি ১৯৯১ সালের প্লেসেস অফ ওয়ারশিপ অ্যাক্ট এবং ওয়াকফ আইনের ‘ওয়াকফ বাই ইউজার’ সংক্রান্ত বিধানের কথাও তুলে ধরেন।

ভারতের সার্বভৌম কাঠামো স্মরণ করিয়ে দিয়ে আরশাদ মাদানি বলেন, এই দেশ প্রতিটি ধর্মের মানুষের সমঅধিকারের স্থান। ভারতীয় সংবিধান প্রথম শ্রেণি বা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক তৈরি করে না। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান এবং সব ধর্মের অনুসারীদেরই এই দেশ যৌথ মাতৃভূমি।

শেষে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁরা কোনো বিশেষ সুবিধা বা ছাড় চাইছেন না, তাঁদের একমাত্র দাবি সমন্যায় বা সমান বিচার। যদি সংবিধান এবং আইন সকলের জন্য প্রযোজ্য হয়, তবে তার সুরক্ষা এবং প্রয়োগও প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান হওয়া উচিত।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply