কলকাতা, ৯ অক্টোবর:
‘বাংলাদেশি’ সন্দেহেছত্রিশগড়ে পুলিশের হাতে আটক পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার চারজন পরিযায়ী মুসলিম শ্রমিক এক মাসেরও বেশি সময় বন্দিদশায় কাটানোর পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। কলকাতা হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ ও হস্তক্ষেপের পর বুধবার রাতে ছত্তীসগঢ় প্রশাসন তাঁদের মুক্তি দেয়। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও প্যান কার্ড থাকা সত্ত্বেও এবং ভোটার তালিকা সংশোধনী সংক্রান্ত আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তাঁদের অন্যায়ভাবে আটকে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল আদালত। শেষ পর্যন্ত পুলিশ রিলিজ অর্ডারে তাঁদের ‘ভারতীয় নাগরিক, বাংলাদেশি নন’ বলে উল্লেখ করে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ সেপ্টেম্বর। জীবিকার তাগিদে ছত্রিশগড়ে কাজ করতে যাওয়া মুর্শিদাবাদের ২৩ জন পরিযায়ী শ্রমিককে বিলাসপুর এলাকা থেকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ। তাঁরা ছুনছিয়াপাড়া-গণেশ নগর এলাকায় বসবাস করতেন এবং ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের দাবি, পুলিশ জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রত্যেকেই বৈধ ভারতীয় নথিপত্র দেখান, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁদের রায়পুরের একটি হোল্ডিং বা ডিটেনশন সেন্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নথিপত্র যাচাই শেষে ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯ জন শ্রমিককে মুক্তি দেওয়া হলেও বাকি চারজনকে আটকে রাখা হয়।
এই পরিস্থিতিতে তাঁদের পরিবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। মামলায় জানানো হয় যে, ওই চারজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মুর্শিদাবাদের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আপিল প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। গত ৫ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও ছত্তীসগঢ় পুলিশের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে ভোটার তালিকা নিয়ে আইনি আপিল এখনো অমীমাংসিত, সেখানে ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসার কীভাবে আলাদা করে কারও নাগরিকত্ব নির্ধারণ করে আটক রাখতে পারেন? আদালত মন্তব্য করে, সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এভাবে সাধারণ মানুষকে নিয়ে খেলা করা হচ্ছে।
হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থানের পরই নড়েচড়ে বসে ছত্তীসগঢ় প্রশাসন। বুধবার রাতে মুক্তি পাওয়া শ্রমিক সফিকুল ইসলাম জানান, “আমরা যখন সব আশা হারিয়ে ফেলেছিলাম, তখন হঠাৎ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমাদের তৎক্ষণাৎ ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ তাদের অর্ডারে লিখে দিয়েছে যে আমরা ভারতীয়, বাংলাদেশি নই।”
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সমীরুল ইসলাম এই বিষয়ে জানান, ছত্তীসগঢ় প্রশাসন এই শ্রমিকদের যাচাই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট মুর্শিদাবাদের জেলা প্রশাসনের কাছে চেয়েছিল। কিন্তু সঠিক সময়ে সেই রিপোর্ট না দেওয়ায় পরিবারগুলোকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। অন্য রাজ্য থেকে যখন কোনো নাগরিকের পরিচয় জানতে চাওয়া হয়, তখন রাজনৈতিক পক্ষপাত না রেখে অবিলম্বে তথ্য দেওয়া সরকারি আধিকারিকদের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সাথে বিচারবিভাগের দ্রুত হস্তক্ষেপে অসহায় পরিবারগুলি বিচার পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

