মুম্বই, ৮ অক্টোবর:
সংখ্যালঘু মুসলিম মহিলাদের ছবি বিকৃত করে তৈরি কুখ্যাত ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপ মামলায় প্রথম অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া বিশাল কুমার ঝাকে যাবতীয় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (ডিসচার্জ) দিল মুম্বইয়ের একটি আদালত। বান্দ্রার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আর টি ইঙ্গলে এক আদেশে জানিয়েছেন, অ্যাপটি তৈরি বা মুসলিম মহিলাদের ছবি আপলোড করার পেছনে ২৫ বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র বিশালের কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্রের প্রমাণ মেলেনি। আদালত স্পষ্ট পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, কোনো অ্যাপ বা পেজ কেবল ফলো করা কিংবা সহ-অভিযুক্তদের সঙ্গে পরিচিত থাকা কোনো ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে না।
২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে গিটহাব প্ল্যাটফর্মে তৈরি হয়েছিল এই বিতর্কিত বুল্লি বাই অ্যাপ। সেখানে বিশিষ্ট মুসলিম মহিলা সাংবাদিক, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ ও শিল্পীদের ছবি অনুমতি ছাড়া আপলোড করে তাঁদের ভুয়ো অনলাইন ‘নিলাম’-এর আয়োজন করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল সংখ্যালঘু নারীদের সামাজিকভাবে হেনস্থা ও অসম্মান করা। সেই সময় বেঙ্গালুরুর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র বিশাল ঝাকে ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি প্রথম অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করেছিল মুম্বই পুলিশ। পরবর্তীতে মুম্বই ও দিল্লি পুলিশ মিলিয়ে মোট ছ’জনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করে এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই চার্জশিট পেশ করা হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, বিশাল ঝা সামাজিক মাধ্যমে এই অ্যাপ শেয়ার করেছিলেন এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তবে শুনানিপর্বে আদালত দেখতে পায় যে, তদন্তকারী আধিকারিক এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ করতে পারেননি যা প্রমাণ করে বিশাল তাঁর ব্যক্তিগত টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে অ্যাপটি প্রচার বা শেয়ার করেছিলেন। পুরো অভিযোগপত্রে দেখা যাচ্ছে, তিনি কেবলমাত্র অ্যাপটিকে ‘ফলো’ করেছিলেন। এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি পূর্ববর্তী রায়কে উদ্ধৃত করে আদালত জানায়, কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ শুধুমাত্র ফলো করা তথ্যপ্রযুক্তি আইনে কোনো দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।
একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত নীরজ বিষ্ণোইকে অ্যাপ তৈরিতে বিশাল সাহায্য করেছিলেন বা মুসলিম মহিলাদের ছবি সরবরাহ করেছিলেন—এমন কোনো বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ পুলিশের নথিতে নেই। সহ-অভিযুক্তদের সঙ্গে চেনা-পরিচিতি থাকা মানেই তাঁদের করা অপরাধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেউ জড়িয়ে পড়েন না। ফলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, শত্রুতা ছড়ানো, নারীর শ্লীলতাহানি এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের যেসব ধারায় বিশালকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, তা বিচারের জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়ে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। এর আগে গত এপ্রিল মাসে সহ-অভিযুক্ত ময়ঙ্ক রাওয়াত এই ধরনের অব্যাহতির আবেদন জানালেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছিল, কারণ তাঁর বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়া থেকে ছবি ডাউনলোডের প্রমাণ মিলেছিল। বিশাল ঝা নিষ্কৃতি পাওয়ায় বর্তমানে এই মামলার বাকি পাঁচজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চালু থাকছে, যাঁরা প্রত্যেকেই বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

