ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কেন্দ্রের নোটিশের জবাব দিল হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম; খতিয়ে দেখছে আইটি মন্ত্রক

ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কেন্দ্রের নোটিশের জবাব দিল হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম; খতিয়ে দেখছে আইটি মন্ত্রক

নয়াদিল্লি,১০ জুলাই ২০২৬: জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপের (WhatsApp) প্রস্তাবিত ‘ইউজারনেম’ (Username) ফিচারটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো নোটিশের জবাব দিয়েছে মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অন্য আরেক বৃহৎ মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামও (Telegram) তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের নোটিশের প্রতিক্রিয়া জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) বর্তমানে এই দুটি প্ল্যাটফর্মের দেওয়া বক্তব্য ও সুরক্ষামূলক নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখছে।

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গণমাধ্যম ‘ওয়ানইন্ডিয়া’ (Oneindia) এবং ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ (Hindustan Times)-এর বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার (৮ জুলাই, ২০২৬) রাতে হোয়াটসঅ্যাপ এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে টেলিগ্রামের তরফ থেকে এই জবাব মন্ত্রকে জমা দেওয়া হয়েছে।

গত ১ জুলাই কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মেটা-কে একটি কড়া আইনি নোটিশ পাঠায়। সরকারের মূল আশঙ্কা ছিল, হোয়াটসঅ্যাপে ফোন নম্বর ছাড়াই যোগাযোগ করার এই ‘ইউজারনেম’ ফিচারটি চালুর ফলে দেশে অনলাইন প্রতারণা, ফিশিং (Phishing), ফেক ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ স্ক্যাম এবং আইডেন্টিটি থেফট বা পরিচয় চুরির মতো সাইবার অপরাধ নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। অপরাধীরা আসল ব্যক্তি বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে হুবহু মিল রেখে জাল ইউজারনেম তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে।

মন্ত্রকের তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস. কৃষ্ণন জানিয়েছেন, এই ধরনের ফিচার সাইবার অপরাধীদের নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করতে পারে। সেই কারণেই হোয়াটসঅ্যাপকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, সরকারের পূর্ণ সন্তুষ্টি ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভারতে এই ফিচারটি কোনোভাবেই চালু করা যাবে না। একই ধরনের নোটিশ ৩ জুলাই টেলিগ্রাম এবং সিগন্যাল (Signal) অ্যাপকেও পাঠানো হয়েছিল, কারণ তাদের প্ল্যাটফর্মে এই ফিচারটি ইতিমধ্যেই বিদ্যমান।

সরকারের নোটিশের জবাবে মেটা-র এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, হোয়াটসঅ্যাপের এই ইউজারনেম ফিচারটি এখনও সম্পূর্ণ লাইভ করা হয়নি এবং বছরের শেষের দিকে এটি ধাপে ধাপে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সুরক্ষার বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে তারা কয়েকটি বিশেষ সুরক্ষাকবচের কথা উল্লেখ করেছে:

  • ভিআইপি ও হাই-প্রোফাইল নাম সংরক্ষণ: কোনো ধরনের জালিয়াতি রুখতে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিবিদ, সেলিব্রিটি, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং মেটা ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টগুলির ইউজারনেম আগে থেকেই ব্লক বা রিজার্ভ করে রাখা হয়েছে। যাতে প্রকৃত মালিক ছাড়া অন্য কেউ তা ব্যবহার করতে না পারেন। এমনকি এই নামগুলির কাছাকাছি অন্য কোনো ‘লুক-অ্যালাইক’ (Lookalike) বা বিভ্রান্তিকর নামও ব্লক করা হয়েছে।
  • সীমিত সার্চ ও চ্যাট অপশন: কোনো অপরিচিত ব্যক্তি সরাসরি ইউজারনেম সার্চ করে অন্য কাউকে মেসেজ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সে সঠিক ইউজারনেমটি জানছে। এছাড়া একটি নতুন অ্যাকাউন্ট দিনে কতজনকে মেসেজ পাঠাতে পারবে, তার ওপর নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা থাকবে।
  • অ্যালগরিদম ও কনটেক্সট ওয়ার্নিং: যদি কোনো ইউজারনেমের মাধ্যমে প্রথমবার মেসেজ আসে, তবে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীকে অতিরিক্ত তথ্য দেখাবে— যেমন অ্যাকাউন্টটি নতুন কিনা, কোনো মিউচুয়াল গ্রুপে আছে কিনা বা অন্য কোনো দেশের অ্যাকাউন্ট কিনা। পরিচয় চুরির প্রমাণ মিললে তৎক্ষণাৎ অ্যাকাউন্টটি নিষিদ্ধ করা হবে।

সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং সংবাদসংস্থা পিটিআই (PTI) জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ ৪ দিনের অতিরিক্ত সময় চেয়ে নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই তাদের জবাব জমা দিয়েছে। সিগন্যাল অ্যাপের প্রতিক্রিয়া এখনও প্রক্রিয়াধীন থাকলেও, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের জবাবে সরকার কতটা সন্তুষ্ট হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই ফিচারগুলির ভবিষ্যৎ আইনি বৈধতা। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের (IT Act) নিয়মাবলী ও মধ্যস্থতাকারী (Intermediary) হিসেবে প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply