মুম্বই,১০ জুলাই ২০২৬: ভারী বর্ষণের জেরে মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের নবনির্মিত কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট ‘মিসিং লিঙ্ক’ (Missing Link)-এ ধস নামা এবং তা সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ঝড় উঠেছে। এই পরিকাঠামোগত ব্যর্থতা ও গাফিলতির বিরুদ্ধে সরব হওয়া সমালোচকদের উদ্দেশ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের একটি অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য এই রাজনৈতিক বাদানুবাদকে চরম সীমায় পৌঁছে দিয়েছে। বিধানসভায় বক্তব্য রাখার সময় ফড়নবিস সমালোচকদের ‘কুকুর’ এবং ‘ভাড়াটে তট্টু’ (ভাড়াটে ট্রোল) বলে কটাক্ষ করেন, যার তীব্র বিরোধিতা করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রবল বৃষ্টির কারণে ৬,৬৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের ‘মিসিং লিঙ্ক’ সেকশনের একটি টানেলের (সুড়ঙ্গ) বাইরে ভয়াবহ ধস নামে। এই ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয় এবং সুড়ঙ্গ পথটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এবং বিরোধীরা এই প্রকল্পের মান ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।
সমালোচনার জবাবে বিধানসভায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করেন দেবেন্দ্র ফড়নবিস। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাতি যখন চলে, তখন পিছন থেকে কুকুররা ঘেউ ঘেউ করেই। কিছু ভাড়াটে তট্টু (ভাড়াটে ট্রোল) সোশ্যাল মিডিয়ায় বসে এই মেগা প্রজেক্টের নামে বদনাম করার চেষ্টা করছে।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে বিরোধীরা সরাসরি জনগণের অবমাননা এবং ক্ষমতার অহংকার বলে তীব্র নিন্দা শুরু করেছে।
ফড়নবিসের এই ভাষার প্রয়োগের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (UBT) এবং শরদ পাওয়ারের দল এনসিপি (SP)। শিবসেনা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বলেন, “৬,৬৯৫ কোটি টাকার প্রজেক্ট প্রথম বর্ষাতেই ধসে পড়ল, তিনজনের প্রাণ গেল, আর তার জবাব না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের যৌক্তিক প্রশ্নকে ‘কুকুরের ঘেউ ঘেউ’ বলছেন? এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতির পরিপন্থী।”
এনসিপি-র পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে, সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা কীভাবে ‘মহারাষ্ট্রের অপমান’ হতে পারে? প্রথম বর্ষার বৃষ্টিও সহ্য করতে না পারা এই মেগা প্রজেক্ট সরাসরি প্রশাসনিক গাফিলতি এবং দুর্নীতিরই স্পষ্ট প্রমাণ।
মহারাষ্ট্র সরকারের এই মনোভাবের সমালোচনা করেছেন বিজেপির কৌশলগত মিত্র ও মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)-র প্রধান রাজ ঠাকরেও। একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় রাজ ঠাকরে সরাসরি দেবেন্দ্র ফড়নবিসকে নিশানা করে বলেন, “সরকারের কাজের সমালোচনা করা বা মিসিং লিঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলার মানে কোনোভাবেই মহারাষ্ট্রকে অপমান করা নয়। আপনারা যখন বিরোধী আসনে ছিলেন, তখন কি নিজেরা প্রশ্ন তোলেননি? বর্তমান কেন্দ্রে বা রাজ্যে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললেই তাকে দেশদ্রোহী বা রাজ্য-বিরোধী তকমা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান চুরির প্রসঙ্গ টেনে রাজ ঠাকরে আরও বলেন, “যদি কেউ ভক্তদের ১৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তবে তাকে ধর্ম-বিরোধী বলে দেওয়া হয়। ঠিক একইভাবে এখানে দুর্নীতির প্রশ্ন তুললে বলা হচ্ছে মহারাষ্ট্রের অপমান। এই অহংকার সাধারণ মানুষ বরদাস্ত করবে না।”
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
