কলকাতা | ১ ফেব্রুয়ারি : কলকাতা ও ভারতের সোনা-রুপো বাজারে গত দুই সপ্তাহে যে অভূতপূর্ব উত্থান দেখা গিয়েছিল, তা এখন সম্পূর্ণ উল্টো দিকে মোড় নিয়েছে। জানুয়ারি মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সোনার দাম MCX-তে ১,৬৭,০০০ টাকা থেকে ১,৮০,৭৭৯ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছেছিল — কলকাতায় ২৪ ক্যারেট পাকা সোনা ১০ গ্রামে ১,৮০,০০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এই উত্থানের পিছনে ছিল আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, ইরান-সম্পর্কিত ভূ-রাজনৈতিক টেনশন, ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতির ভয়, ডলারের দুর্বলতা এবং সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের সোনা কেনাকাটা। রুপো তখন ১২০ ডলার প্রতি আউন্স ছাড়িয়ে ভারতে কেজি প্রতি ৪-৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। লগ্নিকারীরা সোনাকে ‘সেফ-হেভেন’ হিসেবে দেখে বিপুল পরিমাণে কিনেছিলেন, যার ফলে দাম প্যারাবলিক র্যালি দেখিয়েছিল — গত এক বছরে সোনা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু ২৯-৩০ জানুয়ারি থেকে ছবি পুরোপুরি বদলে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩০ জানুয়ারি কেভিন ওয়ার্শকে ফেড চেয়ার হিসেবে নমিনেট করেন। ওয়ার্শকে ‘হকিশ’ (মুদ্রানীতিতে কড়া) বলে পরিচিত, যা ফেডের স্বাধীনতা বজায় রাখার সংকেত দেয় এবং ইনফ্লেশন নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা দেখায়। এতে ডলার মজবুত হয়ে ওঠে (USD ইনডেক্স ০.৯%+ বাড়ে), রিয়েল ইয়েল্ড বাড়ে এবং সোনা-রুপোর মতো সেফ-হেভেন অ্যাসেট থেকে ফান্ড সরে যায়। আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ড ৫,৫৯৫ ডলার থেকে একদিনে ৯-১২% পড়ে ৪,৭০০-৫,০০০ ডলারের কাছে নেমে আসে। রুপোতে ধস আরও ভয়াবহ — ৩০-৩১% পড়ে ৭৮ ডলারের কাছে, যা ১৯৮০-এর পর সবচেয়ে খারাপ দিন। এই পতনে গ্লোবাল প্রিসিয়াস মেটাল মার্কেট থেকে ৩-৬ ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য হ্রাস হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আমেরিকান স্টক মার্কেটেও (S&P 500, Nasdaq) একই সময়ে টেক স্টক (Microsoft-সহ) ধসে ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের ইকুইটি লস দেখা যায়, যা ট্রেড ওয়ার ভয়, ফেড নমিনেশন ও প্রফিট বুকিংয়ের যৌথ প্রভাব।
ভারতে এর প্রভাব তীব্র। MCX গোল্ড ফেব্রুয়ারি কন্ট্রাক্ট ১২%+ পড়ে ১,৫০,০০০-১,৬০,০০০ টাকা প্রতি ১০ গ্রামে শেষ হয়েছে। কলকাতায় ১ ফেব্রুয়ারি ২৪ ক্যারেট পাকা সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬০,৫৮০-১,৬২,৩০০ টাকা (প্রতি গ্রাম ১৬,০৫৮-১৬,২৩০ টাকা), হলমার্ক গয়না (২২ ক্যারেট) ১,৪৭,২০০-১,৫৪,২৫০ টাকা। রুপো কেজি প্রতি ৩.৫ লক্ষের নীচে নেমেছে। আনন্দবাজার পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে, হলমার্ক সোনার গহনা ১০ গ্রামে ৭,৩০০ টাকা কমেছে, পাকা সোনা ৭,৬৫০ টাকা কম। এই ধসে লগ্নিকারীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, কারণ অনেকে রেকর্ড উচ্চতায় কিনে লসের মুখে পড়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পতন সাময়িক। প্রফিট বুকিংয়ের পর ফের উত্থান সম্ভব, কারণ ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা (ইরান, ট্যারিফ), ইনফ্লেশন ভয় ও সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক কেনাকাটা অব্যাহত থাকবে। তবে বর্তমানে কেনাকাটার জন্য ভালো সুযোগ, বিশেষ করে বিবাহ-উৎসব মরসুমে। সতর্কতা অবলম্বন করে বিনিয়োগ করুন। দাম স্থানীয় GST, মেকিং চার্জ ও রিয়েল-টাইম পরিবর্তন অনুসারে ভিন্ন হতে পারে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
