বাঁকুড়া, নিজস্ব প্রতিবেদক:
“জলের নাম জীবন ,
জল অপচয় করবেন না ,
করুন সবাই পণ।”
” জল দিবসে শপথ করি,
জল দূষণ, জল অপচয় রোধ করি”
সোনামুখী উত্তর চক্রের ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মদনপুর জয়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সারম্বরে পালিত হল ৩৪ তম আন্তর্জাতিক বা বিশ্ব জল দিবস। এদিন রবিবার বিদ্যালয়ে ছুটি থাকা সত্ত্বেও এদিন প্রভাতে ছাত্র-ছাত্রী , শিক্ষকগণ এবং অভিভাবক গণ ওইসব শ্লোগান দিতে দিতে বাদ্যযন্ত্র বিউগল বাজিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে গ্রাম পরিক্রমা করে। পরে বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে জলে গুরুত্ব, জল দিবসের ইতিহাস সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনন্দময় ঘোষ।
বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা জল নিয়ে বিভিন্ন কবিতা, বক্তৃতা ও নৃত্য পরিবেশন করে এবং জল দিবস সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে একটি বসে আঁকা প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনন্দময় ঘোষ বলেন ,”জলের অপর নাম জীবন। জল ছাড়া আমাদের এক মুহূর্ত চলে না । জল ছাড়া গোটা পৃথিবী অচল। পৃথিবীর সৃষ্টির সময় গোটা পৃথিবী জলময় ছিল। আজ পৃথিবীতে দেখা দিয়েছে জলের তীব্র সংকট ।নাগরিক সভ্যতার লোভে জলময় পৃথিবী হতে চলেছে মরুভূমি।তবুও মানুষ জলের অপচয় করে চলেছে,জলের অপব্যবহার করে জলকে দূষিত করে চলেছে। জলের গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য ,জল নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতি বছরই বিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদায় বিশ্ব জল দিবস পালন করা হয়ে থাকে। বর্তমানে পৃথিবীতে জলের সংকট দেখা দিয়েছে। জলের সংকটের কথা অনুধাবন করে ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্যোগে ২২শে মার্চ জল দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
প্রতিবছর জলদিবস একটা নির্দিষ্ট থিম বা প্রতিপাদ্য বিষয়কে কেন্দ্র করে পালিত হয়।। ২০২৬ সালে অর্থাৎ এ বছরে জল দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় “জল ও লিঙ্গ” (water and Gender) যা জল সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নারী ও মেয়েরা যে অসম বোঝার সম্মুখীন হয় তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই থিমটি কিভাবে লিঙ্গ সমতা এবং নিরাপদ জলের প্রবেশাধিকার একে অপরের সাথে যুক্ত ,কিভাবে জল ব্যবস্থাপনায় নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন সমাজের সকলের উপকার করতে পারে তা অনুসন্ধান করে। ২০২৬ সালের অর্থাৎ এ বছরে জল দিবসের স্লোগান হল”where there is water there is equality” অর্থাৎ যেখানে জল সেখানেই সমতা।
“Water is life but it is also a tool for empowerment ” অর্থাৎ জলই জীবন কিন্তু এটা একটা শক্তিশালী মাধ্যম।
“Water is human right and women should lead the way”জলই মানবিক অধিকার এবং নারী তার নেতৃত্বে”। “
পৃথিবীর তিন ভাগ জল এক ভাগ স্থল হলেও ৯৭ শতাংশ জল সামুদ্রিক যা আমাদের প্রত্যক্ষ ভাবে কোনো কাজে লাগে না। মাত্র ৩ শতাংশ জল আমাদের ব্যবহারের উপযোগী। এর মধ্য ২.৩১ শতাংশ জল মেরু প্রদেশে বরফ হিসাবে জমা রয়েছে। তাহলে মাত্র ০.৬৯ শতাংশ জল আমরা ব্যবহার করি। অতএব সহজে অনুমেয় আমাদের কাছে জল কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”
বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী প্রিতম বাউরী, আদৃতা চক্রবর্তী, অনুষ্কা বাউরী, অঙ্কিতা ধীবর,অদ্রিজা বাউরী, প্রিতম মেটে,সরলিপি মন্ডল , বিশ্বজিৎ বাউরি জানায়, “আজ আমরা সকলে মিলে জল অপচয় না করার আবেদন নিয়ে গ্রামের মানুষদের সচেতন করার বার্তা প্রচার করলাম। আমাদের বিদ্যালয়ে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা আছে, আমাদের ব্যবহৃত জল পুনরায় বিদ্যালয়ের সবজি বাগানে ব্যবহার করা হয়। এখানে জলের যথোপযুক্ত ব্যবহার করি।”
অভিভাবক দিলীপ মণ্ডল বলেন, “বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এই অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই । এর ফলে সাধারণ মানুষের জল সমন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে”।

