কর্নাটকে ভোটার তালিকায় ‘নজিরবিহীন জালিয়াতি’র অভিযোগ এনডিএ-র; কমিশনের দ্বারস্থ কুমারস্বামী-যোশীরা

কর্নাটকে ভোটার তালিকায় ‘নজিরবিহীন জালিয়াতি’র অভিযোগ এনডিএ-র; কমিশনের দ্বারস্থ কুমারস্বামী-যোশীরা

বেঙ্গালুরু,৬ জুলাই ২০২৬: কর্নাটকে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলল বিজেপি ও জেডি(এস)-এর ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (NDA) জোট. সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে কর্নাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) ভি. আনবুকুমারের কাছে এনডিএ নেতাদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেয়. রাজ্যে চলমান ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় “ব্যাপক অনিয়ম” হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ. এই ঘটনার একটি তাৎক্ষণিক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং সমস্ত ভোটার তালিকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুনরায় যাচাইকরণের (re-verification) জোরালো দাবি জানিয়েছে এনডিএ নেতারা.

এনডিএ প্রতিনিধি দলের অভিযোগ:

এনডিএ-র এই প্রতিনিধি দলে শামিল ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও জেডি(এস) নেতা এইচ. ডি. কুমারস্বামী, বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী ও শোভা কারান্দলাজে এবং কর্নাটক বিধানসভা ও বিধান পরিষদের বিরোধী দলনেতা আর. অশোকা ও চালাভাদি নারায়ণস্বামী. মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে দেওয়া চিঠিতে নেতারা উল্লেখ করেছেন যে, যে সমস্ত আধিকারিকদের এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা অনুমোদিত নিয়মাবলীর কোনো তোয়াক্কাই করছেন না, যা সরাসরি গণতন্ত্রের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে.

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বুথ স্তরের আধিকারিকদের (BLOs) বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের পরিচয় ব্যক্তিগতভাবে যাচাই করার কথা. কিন্তু এনডিএ-র অভিযোগ, বাস্তবে এই নিয়ম সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হচ্ছে. বিভিন্ন নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করার জন্য স্থানীয় স্তরে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হচ্ছে এবং বাড়ি বাড়ি যাওয়ার পরিবর্তে BLO-দের ব্যক্তিগত বাসস্থান, মসজিদ বা বিভিন্ন কমিউনিটি হলে ক্যাম্প করে গণহারে ভোটারদের নাম তোলার ফর্ম পূরণ করা হচ্ছে. এর ফলে প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নষ্ট হচ্ছে. বিরোধী নেতাদের আরও অভিযোগ, শাসকদল কংগ্রেস এই ধরনের গণ-নথিভুক্তকরণ ক্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধ বা নথিপত্রহীন অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা করছে.

উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান:

বিরোধীদের এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে কর্নাটকের বর্তমান কংগ্রেস সরকারের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে. রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো উদ্দেশ্য নেই.

শিবকুমারের দাবি, এই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করেছে এবং সাধারণ মানুষ যাতে সহজে অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের জাতিগত ও আয়ের শংসাপত্র ডাউনলোড করতে পারেন, তার সুবিধা করে দিয়েছে. এতে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন. কিন্তু বিরোধীরা মূলত দরিদ্র ও সংখ্যালঘু শ্রেণির মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে এবং তাদের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতেই এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে. অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগের জবাবে শিবকুমার এনডিএ নেতাদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, যদি সত্যিই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী থেকে থাকে, তবে তাদের নির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করা হোক. তিনি প্রশ্ন তোলেন, পূর্ববর্তী বিজেপি সরকারের আমলে কেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? কংগ্রেস দল কোনো যোগ্য নাগরিক যাতে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন তা নিশ্চিত করতে সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং বিরোধীদের এই প্রতিবাদ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি মন্তব্য করেন.

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply