বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া পারিবারিক সহিংসতার ভিডিও কেরালার দাবি করে ভুয়ো প্রচার সোশ্যাল মিডিয়ায় : ফ্যাক্ট চেক

বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া পারিবারিক সহিংসতার ভিডিও কেরালার দাবি করে ভুয়ো প্রচার সোশ্যাল মিডিয়ায় : ফ্যাক্ট চেক

কেরালাম/কুমিল্লা ৬ জুলাই ২০২৬:: সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে যে, ভারতের কেরালা রাজ্যে এক বাবার অকথ্য শারীরিক নির্যাতন ও লালসার হাত থেকে বাঁচতে তাঁর তিন মেয়ে মিলে বাবার বিশেষাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দিয়েছেন। তবে সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রমাণিত হয়েছে যে, এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর। এর সঙ্গে কেরালার কোনো যোগসূত্র নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ভাইরাল ভিডিওটি ভারতের কেরালার নয়, বরং বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার। ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৬ সালের ২৯ জুন রাতে। ভাঙ্গার বাসিন্দা সুমাইয়া আক্তার সুমি নামের এক নারী তাঁর স্বামী হানিফ শেখের পরকীয়া ও প্রতিনিয়ত পারিবারিক সহিংসতার (ঘরোয়া হিংসা) ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এই চরম পদক্ষেপ নেন। স্বামী ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা কালীন সুমি একটি ধারালো ব্লেড দিয়ে তাঁর বিশেষাঙ্গ কেটে ফেলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হানিফ শেখকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ পুলিশ অভিযুক্ত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুমিকে গ্রেপ্তার করেছে।

ভুয়ো দাবির প্রচার:

বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া এই পারিবারিক সহিংসতার ভিডিওটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল প্রচার করছে। এটিকে কেরালার ঘটনা এবং বাবার ওপর মেয়েদের প্রতিশোধের গল্প হিসেবে সাজিয়ে সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

সুতরাং, কেরালায় মেয়েদের দ্বারা বাবার বিশেষাঙ্গ কাটার যে দাবিটি ছড়িয়েছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আসল ঘটনাটি বাংলাদেশের ফরিদপুরে ঘটে যাওয়া স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার একটি পারিবারিক অপরাধের ঘটনা।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply