নয়াদিল্লি, ৬ জুলাই ২০২৬: ইনস্টাগ্রামের (Instagram) পেইড বিজ্ঞাপনে (Paid Advertisements) শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট (CSAM/CSEAM) প্রচার ও বাড়ানোর গুরুতর অভিযোগে মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষকে একটি কড়া আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)। একই সঙ্গে এই ধরনের সমস্ত আপত্তিকর বিজ্ঞাপন অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে মেটার কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সরাসরি নির্দেশে মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি আই’ (BBC Eye)-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই মারাত্মক কেলেঙ্কারিটি প্রকাশ্যে আসে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতে ইনস্টাগ্রামের বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে একদল দুষ্কৃতী অত্যন্ত আপত্তিকর কোড ল্যাঙ্গুয়েজ এবং শব্দ (যেমন— “rape video” বা “child video”) ব্যবহার করে পেইড বিজ্ঞাপন চালাচ্ছিল। ব্যবহারকারীরা সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলেই সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছিলেন এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের (Telegram) কিছু গোপন চ্যানেলে, যেখানে ওই নিষিদ্ধ শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট বা ভিডিও বিক্রি করা হচ্ছিল।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্র এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। বিশেষ করে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে এই ধরনের সংবেদনশীল কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়াকে (Algorithmic Amplification) অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের আপলোড করা পোস্টের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ (Intermediary) বা কেবল মাধ্যম হওয়ার দোহাই দিয়ে আইনি ছাড় পেলেও, পেইড বিজ্ঞপ্তির ক্ষেত্রে মেটা সেই সুবিধা (Safe Harbour Protection) পাবে না। কারণ এই পেইড বিজ্ঞাপনগুলো থেকে মেটা সরাসরি অর্থ বা রাজস্ব (Revenue) উপার্জন করে। ফলে মেটা-র গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইটি অ্যাক্টের সেকশন ৬৭বি (Section 67B) এবং পকসো আইন, ২০১২ (POCSO Act) অনুযায়ী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এই নোটিশের জবাবে মেটা-র এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, শিশু যৌন নির্যাতন বা সিএসএএম (CSAM)-এর বিরুদ্ধে তাঁদের ‘জিরো-টলারেন্স’ (Zero-Tolerance) নীতি রয়েছে। তাঁরা এই ধরনের কনটেন্ট রুখতে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সর্বাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। মেটা-র দাবি, “বিশ্বজুড়ে আমাদের ৩.৫ বিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারীর মাঝে কিছু চতুর অপরাধী লুকিয়ে থেকে আমাদের সুরক্ষাবলয় ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে, আমরা প্রতিনিয়ত তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছি।”
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে মেটা-র সাথে ভারত সরকারের এটি দ্বিতীয় বড় সংঘাত। এর আগে হোয়াটসঅ্যাপের প্রস্তাবিত ‘ইউজারনেম’ ফিচারটি ডিজিটাল জালিয়াতি ও পরিচয় চুরির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে— এই আশঙ্কায় মেটাকে নোটিশ পাঠিয়েছিল তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
