‘দিল্লিতে জেএনইউ, বাংলায় জেইউ’, যাদবপুরকে ‘শহুরে নকশালদের আঁতুরঘর’ বললেন অর্জুন সিং

‘দিল্লিতে জেএনইউ, বাংলায় জেইউ’, যাদবপুরকে ‘শহুরে নকশালদের আঁতুরঘর’ বললেন অর্জুন সিং

কলকাতা, ২০ আগস্ট:

অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে সংঘর্ষ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। দুই ছাত্র সংগঠনের মিছিলকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের বাইরেও তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সার্বিক এই পরিস্থিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে এবার সরাসরি দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যাদবপুরের তুলনা টানলেন রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে শহুরে নকশালদের আঁতুরঘর ও দেমাগি নকশালদের প্রোডাকশন হাউস বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার উত্তর চব্বিশ পরগনার ভাটপাড়ায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যাদবপুরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন অর্জুন সিং। তিনি অভিযোগ করেন, বাম, অতিবাম ও মাওবাদী ভাবাদর্শের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ পড়ুয়াদের রাষ্ট্রবিরোধী মনোভাবের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে একসময় অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, যাদবপুরও পশ্চিমবঙ্গে ঠিক একই ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকার বার্তা দেন মন্ত্রী। ক্যাম্পাসে মাদকদ্রব্য, গাঁজা, হেরোইন এবং মদ্যপানের অবাধ চল ও পড়ুয়াদের আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানান, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে কিন্তু দেশ সকলেরই এক। যারা দেশবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত, তাদের থেকে ছাত্রসমাজকে দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে অর্জুন সিং বলেন, তথাকথিত টুকরে টুকরে গ্যাং-এর সদস্য না হয়ে তরুণ প্রজন্মের উচিত মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করা। নিজেদের মেধা কাজে লাগিয়ে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেই সঙ্গে দেশ ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন হয়ে এবিভিপি কর্মীদের মতো গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলনের ডাক দেন।

এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধেও সরব হন অর্জুন সিং। ভারতীয় সেনাকে কেন্দ্র করে মহুয়া মৈত্রের সাম্প্রতিক নানা মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। অর্জুনের দাবি, দেশের সেনার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখার দায়ে তাঁর সাংসদ পদ অবিলম্বে খারিজ করে দেওয়া উচিত ।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply