আরামবাগ, ২০ আগস্ট:
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের পর এবার বন্যা রুখতে আরামবাগ মাস্টার প্ল্যানের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু পরিকল্পনার কথা ঘোষণাই নয়, আগামী এক বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার স্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে মোট ১২০০ কোটি টাকা। সরকারের এই বিরাট ঘোষণায় দীর্ঘদিনের প্লাবন সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তির আশায় বুক বাঁধছেন আরামবাগের বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার আকাশপথে প্লাবিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর আরামবাগে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগ। বৈঠক শেষে তিনি জানান, মূলত বন্যা পরিস্থিতি ও মানুষের দুর্দশা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে যাতে বারবার প্লাবনের দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, তার স্থায়ী সমাধানসূত্র বের করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত কয়েকদিনের লাগাতার ও ভারী বৃষ্টির জেরে আরামবাগের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। রাজ্যের বন্যা মানচিত্রে ঘাটাল ও আরামবাগ বরাবরই অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং উদ্বেগের জায়গা হিসেবে চিহ্নিত। এর আগে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছিল প্রশাসন, যার জন্য সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ দ্রুত শেষের আশ্বাসের পাশাপাশি এবার আরামবাগের জলযন্ত্রণা দূর করতে বড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন।
প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেও এই অঞ্চল পুনরায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৈঠক শেষে পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ জানান, আরামবাগের বিভিন্ন সেতুকে কংক্রিট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আরামবাগ সেতুর কাজ দ্রুত শুরুর কথা বলা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সেই সমস্ত কাজ শেষ হবে বলে জানানো হয়েছে। সেচদপ্তরকেও অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে কাজ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় মানুষ।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

